ভারতের কাছে হেরে ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ যুবাদের

আলোচনার কেন্দ্রে থাকা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের এশিয়ান কাপের স্বপ্ন শেষ হলো হতাশাজনকভাবে। উজবেকিস্তান ও সিরিয়ার পর এবার ভারতের কাছেও হেরে বাছাইপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। রবিবার উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারতের কাপেছ ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে আট গোল হজম করলেও একবারও প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশের যুবারা।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ফুটবলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত দলগুলোর একটি ছিল এই অনূর্ধ্ব-২০ দল। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব সামনে রেখে দলটির পেছনে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ছিল বড় ধরনের বিনিয়োগ ও প্রস্তুতি। কিন্তু মাঠের বাইরের নানা ঘটনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুরু থেকেই ছিল বিতর্ক। বিশেষ করে ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্সের বিভিন্ন কর্মকা- ঘিরে বারবার আলোচনায় আসে দলটি। দলের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও ওঠে প্রশ্ন। বাফুফের বাইরে থেকে একজনকে ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়ার পর দলের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় আরও জটিলতা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত উজবেকিস্তান ও সিরিয়ার বিপক্ষে টানা দুই হারের পর জোন্সকে বরখাস্ত করে বাফুফে।

তবে কোচ পরিবর্তনেও ভাগ্য বদলায়নি বাংলাদেশের। জোন্সের বিদায়ের পর ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ডাগআউটে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু। অথচ আগের দুই ম্যাচে গ্যালারিতে বসেই ম্যাচ দেখতে হয়েছিল তাঁকে। নতুন কোচের অধীনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা থাকলেও ভারতকে কোনো সময়ই চাপে ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ভারত। ২৫ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ভেঙে ফাঁকায় বল পেয়ে যান ড্যানি লাইশেরাম। সুযোগটি কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি তিনি। বাংলাদেশের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে ভারতকে এগিয়ে দেন (১-০)। বিরতির পর ব্যবধান বাড়াতে খুব বেশি সময় নেয়নি ভারত। ৬১ মিনিটে গোল করেন বিশাল যাদব। তাঁর গোলে ভারতের লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।

রপর ৭৮ মিনিটে অনিকেত যাদবের গোলে ম্যাচের ফল কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত। তিন ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে তারা এখন চূড়ান্ত পর্বে ওঠার দৌড়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে সিরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ভারত। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছে হেরেছিল ৪-০ গোলে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য পুরো বাছাইপর্বই পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। তিন ম্যাচে কোনো পয়েন্ট তো আসেইনি, গোলও করতে পারেনি দলটি। বিপরীতে প্রতিপক্ষের কাছে হজম করেছে আট গোল। ফলে চার দলের গ্রুপে চতুর্থ হয়ে বাছাইপর্ব শেষ করেছে বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে যে যুব দলকে ঘিরে এত আয়োজন, শেষ পর্যন্ত সেই দলকে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন রেখে বিদায় নিতে হলো।