পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ‘শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে দেখিয়ে তাঁর পরিবার সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর তারিখ এবং তাঁর ছেলের জন্মতারিখ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মো. আ. কুদ্দুস মৃধা। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়ে গত ৩০ আগস্ট ২০২৫ পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বকসির ঘটিচোরা এলাকার মৃত আবদুল আজিজ সিকদার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর গেজেট নম্বর ১০৫০ এবং মুক্তিবার্তা লাল বই নম্বর ০৬৫০৬০২০৭।
অভিযোগকারীর দাবি, ১৯৯৬ সালে আবদুল আজিজ সিকদারের মৃত্যুর তারিখ নির্ধারণে তদন্ত করা হয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁকে ‘শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে অতিরিক্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আবদুল আজিজ সিকদারের ছেলে শহিদুল ইসলাম বাবুলের এসএসসি সনদ ও সংশ্লিষ্ট নথিতে জন্মতারিখ ১৯৮০ সালের ৫ জানুয়ারি উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন। অন্যদিকে বাবার মৃত্যুর তারিখ ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর হওয়ায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারী সরকারি নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন, ওই পরিবারের সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহিদুল ইসলাম বাবুল। তাঁর দাবি, মো. আ. কুদ্দুস মৃধা রাজাকার পরিবারের সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিবারের সম্মানহানির চেষ্টা করছেন। জায়গাজমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে কুদ্দুস তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বী বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’