ডুলির নজরে জিদান ইউসুফ

ইংল্যান্ড প্রবাসী তরুণ ডিফেন্ডার জিদান ইউসুফকে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে আলোচনা নতুন নয়। এবার সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলি। অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে জিদানের পারফরম্যান্সে নজর রাখা ডুলি জানিয়েছেন, সিনিয়র জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে এই তরুণ সেন্টার-ব্যাককে সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা উইন্ডোতে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে বর্তমানে ২৮ ফুটবলারকে নিয়ে অনুশীলন চলছে জাতীয় দলের। রবিবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডুলি কথা বলেন দল ও খেলোয়াড়দের নিয়ে। সেখানেই উঠে আসে জিদান প্রসঙ্গ। বর্তমানে উজবেকিস্তানে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলছেন জিদান। তরুণ এই ডিফেন্ডারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডুলি বলেন, ‘সে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে আমি দলে রাখতে চাই, যদিও সে আবার ফেরত চলে যাবে। অনূর্ধ্ব-২০ দল থেকে ফিরে সে কয়েক দিন আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে। আমি তাকে দেখতে চাই এবং জাতীয় মূল দলের সঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা দিতে চাই, যাতে সে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।’

অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে ইতিমধ্যে দুটি ম্যাচ খেলেছেন জিদান। উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ এবং সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ সেই দুই ম্যাচে। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি দেখেছেন ডুলি। ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও জিদানের পারফরম্যান্সের দিকে তার নজর ছিল। ডুলি অবশ্য এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে চাননি। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে সে আমাদের দলের অংশ হবে কি না, তা আমরা পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব। এই মুহূর্তে সে আমাদের সঙ্গে (আসিয়ান কাপে) ভ্রমণ করবে বলে আমার মনে হয় না। তবে শেষ ম্যাচে কোনো চোট না পেয়ে যদি ডিফেন্সে নিজেকে এক নম্বর হিসেবে প্রমাণ করতে পারে, তবে অবশ্যই আমরা তাকে নিয়ে যাব।’

১৯ বছর বয়সী জিদানের জন্য তাই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ এক মঞ্চ। জাতীয় দলের কোচের সরাসরি নজরে থাকা অবস্থায় নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ডুলির কথাতেও পরিষ্কার, জিদানকে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছেন তিনি। কোচের ভাষায়, ‘সে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে এখন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।’

এদিকে আসিয়ান কাপেও বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতার প্রিমিয়ার ডিভিশনে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে তিন দলই বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে।

ডুলিও বাস্তবতা মেনে কঠিন লড়াইয়ের কথা জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আসলে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে এবং সেভাবেই প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা এমন সব দলের বিপক্ষে খেলব, যারা র‌্যাংকিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। স্পষ্টতই, কাজটা অত্যন্ত কঠিন।’

র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ইন্দোনেশিয়া ৬০ ধাপ, মালয়েশিয়া ৪৫ ধাপ এবং সিঙ্গাপুর ৩৩ ধাপ এগিয়ে। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও পাকিস্তান। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল ফাইনালে খেলবে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই গ্রুপের রানার্সআপরা। এই আট দলের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে শুধু পাকিস্তানই বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে।