সোনা কেনাবেচার নামে চলে ডাকাতি। ডাকাত দলের একটি গ্রুপ সোনা কেনাবেচার আলোচনা করেন, অন্য একটি গ্রুপ ক্রেতার কাছ থেকে টাকা লুট করেন। রাজধানীর ধানমন্ডিতে সম্প্রতি এক ব্যবসায়ী সোনা কেনার জন্য গিয়ে ডাকাতের হাতে ৩৮ লাখ টাকা খোয়ান। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং কয়েকজন সদস্য অতীতে র্যাবেও কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ডাকাত চক্রে বর্তমান এক সেনাসদস্যও রয়েছেন, যার বিষয়ে তার বাহিনীকে অবগত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজনকে ঘটনার দিন হাতেনাতে এবং বাকিদের রাজধানীর দক্ষিণখান, মোহাম্মদপুর, বায়তুল মোকাররম, পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন তানভীর আবেদীন, মজিবুর রহমান, জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির, সোলায়মান মৃধা, মোহাম্মদ কবির হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন, সজল চৌধুরী ও সায়মুন চৌধুরী।
গতকাল রবিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকাতির ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, গত ৩০ আগস্ট দুপুরে ধানমন্ডি ১২ নম্বর সড়কে ডিঙি রেস্টুরেন্টের সামনে ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতি করে ৮-১০ জনের একটি দল। টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তানভীর ও মুজিবুরকে গ্রেপ্তার করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় রিভলবার উদ্ধার করা হয়। পরে মুজিবুর ও তানভীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থেকে ক্যাপ্টেন জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পটুয়াখালী, কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড, মোহাম্মদপুর, বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের আরও ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে জাকারিয়ার কাছ থেকে লুট হওয়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সজল চৌধুরীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি ডাকাতি মামলা এবং একটি অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে জানিয়ে যুগ্ম কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তারদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে। তানভীরের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে, সেগুলো ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায়। সজলের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা পাওয়া গেছে, যেগুলো ডাকাতি ও ছিনতাইসংক্রান্ত। জাকারিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে মাদক ও হত্যা/হত্যাচেষ্টার ঘটনায়। আজাদের বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা রয়েছে।
ফারুক হোসেন জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। তাদের মধ্যে কয়েকজন আগে র্যাবেও কর্মরত ছিলেন।
ধানম-ি থানার ওসি মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই ঘটনার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।