বিটিএস প্রধান ব্যাং সি-হিয়ুকের মামলা প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের মূল অভিভাবক প্রতিষ্ঠান হাইবের চেয়ারম্যান ব্যাং সি-হিয়ুককের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা ও অবৈধ শেয়ার ব্যবসার অভিযোগে করা মামলা প্রসিকিউটরদের (সরকারি কৌঁসুলি) কাছে হস্তান্তর করেছে সিউল পুলিশ।

সম্প্রতি সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি এই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট প্রসিকিউটর অফিসে স্থানান্তরিত করা হয়। 

ব্যাং সি-হিয়ুকের বিরুদ্ধে মামলার মূল অভিযোগ হলো, ২০২০ সালে হাইব (তৎকালীন ‘বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্ট’) শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত  (আইপিও) হওয়ার ঠিক আগে, ২০১৯ সালে তিনি প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেন। তিনি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক করার কোনো পরিকল্পনা নেই, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা কম দামে তাদের শেয়ার একটি প্রাইভেট ইকুইটি ফান্ডের কাছে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন।

পুলিশ ধারণা করছে, পরবর্তীতে সেই ফান্ডটি চড়া দামে শেয়ার বিক্রি করার পর একটি গোপন চুক্তির মাধ্যমে ব্যাং সি-হিয়ুককে লাভের ৩০ শতাংশ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তিনি আনুমানিক ২৬৩.১ বিলিয়ন উওন (প্রায় ১৯৩.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন এবং এই অবৈধ অর্থ ইতোমধ্যে আদালত ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।

ক্যাপিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের দায়ে ব্যাং সি-হিয়ুক এবং হাইবের আরও চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ফাইল প্রসিকিউশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য দুইবার পরোয়ানা চেয়েছিল, তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে প্রসিকিউটররা তা নাকচ করে দেন। এবার তাকে গ্রেপ্তার না দেখিয়েই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া প্রসিকিউটরদের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এদিকে, ব্যাং সি-হিয়ুক ও তার আইনজীবী শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্তি সম্পূর্ণ আইন মেনেই করা হয়েছিল এবং তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য তুলে ধরবেন।

আইনি জটিলতার কারণে বিগত বছর (২০২৫ সালের আগস্ট) থেকেই ব্যাং সি-হিয়ুকের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। প্রসিকিউটররা এখন সিদ্ধান্ত নেবেন যে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে সরাসরি আদালতের মুখোমুখি করা হবে নাকি আরও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে।

সূত্র: দ্য কোরিয়ান হেডলাইন/ দ্য কোরিয়ান টাইমস