দৃঢ় হচ্ছে উত্তর কোরিয়া-রাশিয়া সম্পর্ক

উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে একটি সড়ক সেতু উদ্বোধন করেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, তুমানিয়া নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুকে দুই দেশ তাদের  অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে।

সেতুটি ১৯৫৯ সালে চালু হওয়া ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ নামে পরিচিত রেলসেতুর কাছাকাছি অবস্থিত। কোরীয় যুদ্ধের পর নির্মিত ওই সেতুর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ চালু রয়েছে। এ ছাড়া মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগও রয়েছে।

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন বলেছেন, রাশিয়া ও গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়ার (ডিপিআরকে) সম্পর্ক বর্তমানে নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশ প্রায় সব ক্ষেত্রেই সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে।

ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্তে তুমানিয়া নদীর ওপর নির্মিত সড়ক সেতুটির উদ্বোধন করেন মিশুস্তিন ও উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে সং।

সেতু নির্মাণের সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিশুস্তিন বলেন, রাশিয়া ও ডিপিআরকের সম্পর্ক বর্তমানে নজিরবিহীন উচ্চপর্যায়ের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্বে রয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও দুই দেশ নিজেদের প্রচেষ্টা সমন্বয় করছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব, সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাইরের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়। বাস্তব ক্ষেত্রেও এই সম্পর্কের দৃঢ়তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।

মিশুস্তিন বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ব্যাপকভাবে উন্নত করতে প্রয়োজনীয় সবকিছুই তারা অব্যাহত রাখবেন।

বহু বছর ধরে আলোচনায় থাকা সড়ক সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছরের এপ্রিলে। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়া সফরের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সেতুটি নির্মাণে চুক্তি হওয়ার পর এর নির্মাণ শুরু হয়।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ২০২৪ সালে ইউক্রেনীয় বাহিনীর কুর্স্ক অঞ্চলে অভিযান প্রতিহত করতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছিল।