ঢাকার সাভারে চাঞ্চল্যকর এসআই আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যার ঘটনায় ৮ আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এদের মধ্যে চার আসামীকে র্যাব-১০ মুন্সীগঞ্জ থেকে এবং চার আসামীকে র্যাব-৪ আমিন বাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে র্যাব ১০ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর অটোরিকশার গ্যারেজে অটো রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিককে মারধর করছিলে স্থানীয় কিছু ব্যাক্তি। এ সময় এসআই আলতাফ তার প্রতিবাদ করলে আসামীরা এসআইয়ের ওপর চড়াও হয়। আলতাফ নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিলে আসামীরা আরেও ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে।
প্রাণ বাঁচাতে এসআই আলতাফ হোসেন দৌঁড়ে পাশে তার ছেলের পোষাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়। তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর র্যাব আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০, সদর কোম্পানির চৌকস একটি আভিযানিক দল গতকাল ০৬ সেপ্টেম্বর রাত অনুমানিক সাড়ে ৭টায় গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যা কাণ্ডের সাথে জড়িত এজাহারনামীয় ৪ জন অভিযুক্তকে ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০), ইমরান (২৬)। আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গ্রেপ্তার আপন (৩০) সাভার থানার ৩টি মাদক মামলার আসামি।
এছাড়াও একই ঘটনায় র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার থানাধীন আমিনবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৪ জন এজাহারনামীয় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪) মোঃ রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহম্মেদ (২৪), মোঃ ওয়াসিম (৪০)।