সন্দেহের জেরে স্ত্রীর গালে ব্লেডের পোচ, ২৫ সেলাইয়ের পর ফের মারধরের অভিযোগ

স্ত্রীর চালচলন ও পরকীয়া নিয়ে সন্দেহের জেরে এক পোশাকশ্রমিকের গালে ব্লেড দিয়ে পোচ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। এতে গুরুতর আহত ওই স্ত্রীর গালে ২৫টি সেলাই দিতে হয়েছে। এই ঘটনার ২৩ দিনের মাথায় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে স্ত্রীকে ফের মারধর করেন অভিযুক্ত স্বামী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় লোকজন তাঁকে পিটুনি দিয়ে আটক করে এবং পরিবারকে খবর পাঠায়। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত স্বামীর পরিবারের কেউ এসে পৌঁছায়নি।

অভিযুক্ত স্বামীর নাম সজিব হোসেন (২২)। তিনি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার চর দুর্গাপুর গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রির জোগালি। চার বছর আগে একই জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের বৃ-চরকোনা (আহম্মদপুর) গ্রামের আলাউদ্দিনের মেয়ে রোকসানা বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছরের সাফায়েত নামের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। চাকরির সুবাদে তাঁরা গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রোকসানা টঙ্গীর একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় টঙ্গীর ভাড়া বাসায় সজিব স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সজিব গালিগালাজ ও কিল-ঘুষি মারার পর হাতে থাকা ধারালো ব্লেড দিয়ে রোকসানার গাল থেকে থুতনি বরাবর আঘাত করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ওই দিনই রোকসানা বাদী হয়ে গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানায় সজিবের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিয়ের পর থেকেই সজিব ভরণপোষণ না দিয়ে কথায় কথায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রোকসানার।

টঙ্গীর ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে রোকসানা ঈশ্বরগঞ্জের আহম্মদপুরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানে অবস্থানকালেই গতকাল রাতে সজিব নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে রোকসানাকে পুনরায় মারধর করেন। এরপরই স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী রোকসানা বলেন, সন্দেহ বশে আমাকে সব সময় মারধর করা হতো। আমি কোনো পরকীয়ায় জড়িত নই। ১৪ আগস্ট রাতে ব্লেড দিয়ে মুখ রক্তাক্ত জখম করার পর গতকাল রাতেও বাবার বাড়িতে এসে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আমাকে মেরেছে। আমি এর বিচার চাই।

মেয়ের ওপর চলা এই ধারাবাহিক অত্যাচারে আতঙ্কিত রোকসানার বাবা আলাউদ্দিন বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চলছে। সজিব আমার মেয়েকে যেকোনো দিন মেরে ফেলতে পারে। আমি আর মেয়েকে সজিবের কাছে দেব না, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

আটক থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত সজিব হোসেন বলেন, স্ত্রীর চালচলন নিয়ে সন্দেহ থেকে ঝগড়া হলে রাগের মাথায় ব্লেড দিয়ে পোচ মেরেছিলাম। মাঝেমধ্যে গাঁজা সেবন করলে আমার মাথা ঠিক থাকে না। আমি আর এমন করব না, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই। আমাকে যে শাস্তি দেওয়া হবে, তা মাথা পেতে নেব।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কাশেম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ভুক্তভোগী রোকসানার দাবি, দ্বিতীয় দফার মারধরের বিষয়ে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।