সিএনজি নেওয়ার সিরিয়াল নিয়ে হাতাহাতি, মহাসড়ক অবরোধ

জামালপুর শহরের একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেওয়ার সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে চালক ও পাম্পের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে ক্ষুব্ধ সিএনজি চালকেরা মহাসড়কে গাড়ি রেখে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে শহরের মেসার্স জবেদ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাম্প এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সিএনজি চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোকে পেছনে রেখে জরুরি ও ভিআইপি পরিচয়ে কিছু গাড়িকে আগে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এ নিয়ে চালকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় গড়ায়। এতে তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ সিএনজি চালকেরা পাম্পের সামনে জামালপুর-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ি আড়াআড়ি রেখে অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

তবে পাম্পের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান চালকেরা। তাদের অভিযোগ, গ্যাসের সিরিয়াল দেওয়ার নামে অবৈধভাবে টাকা নেওয়া হয়। এ অভিযোগের তদন্ত, অভিযুক্ত দুই কর্মীকে অপসারণ এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে জেলা সিএনজি কমিটির আহ্বায়ক মো. চান মিয়া বলেন, “আমরা এই ঘটনার আলোচনা সাপেক্ষে বিচার করব, যাতে সকল শ্রমিক ন্যায্য বিচার পান। আমরা সেই ব্যবস্থা করব। আমরা মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক করে দিয়েছি।”

পরে সিএনজি মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে মহাসড়কের অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওই ফিলিং স্টেশনে তেল ও গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন চালক-শ্রমিকেরা।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।