ইরান যুদ্ধের কারণে গত ৬ মাসে জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্যের ধাক্কায় মার্কিন গ্রাহকদের অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন স্কুলের 'ইরান ওয়ার এনার্জি কস্ট ট্র্যাকার'-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এই খরচ ভাগ করে দিলে প্রতি বাড়ির খরচ হয়েছে অতিরিক্ত প্রায় ৭৬৩ ডলার। আনুমানিক ১৩১ মিলিয়ন বাড়ি রয়েছে দেশটিতে। ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সমর্থন পায়নি। বেশির ভাগ মার্কিনি তেলের দাম বৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করছেন। তবে এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যদি এটি বাড়ে, তাহলে বাড়ুক।’ তিনি উল্টো এই দাম বৃদ্ধির জন্য তেল কোম্পানিকে দায়ী করেছেন।
যে যুদ্ধ ট্রাম্পের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা ছিল, তা এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে এর কোনো কূটনৈতিক সমাধানও হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রেও তেলের দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিনিরা ডিজেলের চেয়ে পেট্রোলের দাম নিয়ে বেশি সমস্যার মুখে রয়েছেন। কারণ, তারা এটিই বেশি ব্যবহার করেন। গত ছয় মাসে এটির দাম বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে দাম গিয়ে ঠেকেছে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বেড়েছে এর চেয়েও বেশি; হিসাবে ৬০ শতাংশের বেশি। প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে এটি গিয়ে ঠেকেছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গরাজ্যভেদে তেলের দাম বাড়ছে, বিশেষ করে জ্বালানি করের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট কোস্টে এর দাম বেশি। এদিকে, তেল ও গ্যাস যেহেতু খাদ্য চেইনের প্রতিটি ধাপের সঙ্গে জড়িত, একেবারে ট্রাক্টর থেকে শুরু করে খাবার শীতলীকরণ, প্লাস্টিক প্যাকেজিং; সেহেতু এর দাম বৃদ্ধির ফলে বাড়িয়ে দিয়েছে খাবারের বাজারদরও। এটি অবশ্য বিশ্বজুড়েই হচ্ছে। এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যেখানে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে তেল ও সার আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।