ভারত-পাকিস্তানকে দেখেই শক্তিশালী বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই জাপানে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ভারত-পাকিস্তানের মতো পরাশক্তিরা যখন শক্তিশালী জাতীয় দল নিয়ে এ টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকেনি। ২০তম এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ক্রিকেটে ১৫ সদস্যের পূর্ণশক্তির দল দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ টুর্নামেন্ট দিয়ে দীর্ঘ ১৬ মাস পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলেন তিনি।

শুরুতে এই এশিয়ান গেমসের জন্য হাই পারফরম্যান্স দল পাঠানোর কথা ছিল বিসিবির। সে পরিকল্পনায় কোচিং প্যানেলও সাজিয়ে রাখে বোর্ড। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান শক্তিশালী দল দেওয়ায় পদকের লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকতে চান না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এ জন্য এই মুহূর্তে নিজেদের সেরা দলটাই দিয়েছে তারা। তবে কোচিং প্যানেলে আর পরিবর্তন আসেনি। এইচপি বিভাগের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনই দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, এশিয়ান গেমসের মতো আসরে দেশের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাওয়া বিশেষ সম্মানের। এত বড় মঞ্চে সেরা সাফল্য অর্জন করাই মূল লক্ষ্য তার।

এশিয়ান গেমস উপলক্ষে গতকাল অলিম্পিক ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ছেলেদের ক্রিকেটের প্রত্যাশা তুলে ধরে সালাউদ্দিন বলেন, ‘সবসময় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া যায় না। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবাই আশা করে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভালো করবে এবং আমরা সাধারণত খুব বেশি পদক পাইও না। কিন্তু যেহেতু ক্রিকেট, আমি মনে করি পুরো দেশ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে যে, আমরা যেন ভালো করি। এবং আমি আশা করি যে আমরা ভালো করব। এখানে শিরোপা জয়ের চিন্তা করা ছাড়া আসলে কোনো বিকল্প নেই। তো আমরা আশা করব যে ছেলে ও মেয়েরা ভালো করবে এবং ভালো পদক নিয়ে আসবে।’

এবারের এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। তবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়ারা আগে এসব নিয়ে ভাবতে চান না সালাউদ্দিন, ‘সবকিছুরই চ্যালেঞ্জ আছে। থাকাটা আমার কাছে খুব বড় একটা ব্যাপার নয়। আমরা দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি। খেলাটাই আমাদের মুখ্য চ্যালেঞ্জ থাকবেই। সাধারণত আমরা অন্য জায়গায় যখন খেলতে যাই, অনেক সুযোগ-সুবিধা পাই এবং এসব জায়গায় ভালো রেজাল্ট করি না। থাকাটা আমার কাছে খুব বেশি মুখ্য বিষয় নয়, আমার কাছে মুখ্য বিষয় আমরা একটা জায়গায় খেলতে যাচ্ছি। সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, আমরা যেন খেলার দিকেই তাকিয়ে থাকি।’

 ২০২৬ এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ক্রিকেট ইভেন্টে ১০টি দল অংশ নিচ্ছে। আফগানিস্তান, জাপান ও নেপাল রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। ‘বি’ গ্রুপে হংকং, মালয়েশিয়া এবং ওমান। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পাওয়া চার দল হলো ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। সালাউদ্দিনের চোখেও তাই এবারের আসরটি বড় চ্যালেঞ্জের। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে ওঠার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে আমাদের এইচপি দল পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু যখন আমরা দেখলাম অন্য দেশগুলো তাদের জাতীয় দল পাঠাচ্ছে, সেখানে আমরা কেন পাঠাব না? এটা একটা চ্যালেঞ্জিং টুর্নামেন্ট হবে। আমাদের যে সূচি, ফাইনালে যাওয়ার খুব ভালো সুযোগ আছে।’ কিন্তু গত জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ে সফরের পর টি-টোয়েন্টি সংস্করণের কোনো ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ দল। সেটিও ভাবাচ্ছে সালাউদ্দিনকে, ‘আমরা যত তাড়াতাড়ি পারি এটি মানিয়ে নেব। টি-টোয়েন্টি আমরা যে ছন্দে ছিলাম তিন-চার মাস আগে, সেই ছন্দটা কত তাড়াতাড়ি নিয়ে আসতে পারি, ছেলেদের জন্য এটিই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’

দীর্ঘ বিরতির পর শান্তর ফেরাও আলোচনায় এসেছে। তবে তাকে বিশেষ কোনো বিবেচনায় দলে নেওয়া হয়নি বলেই মনে করেন সালাউদ্দিন। বরং সেরা ১৫ জনের একজন হিসেবেই শান্তকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি এই কোচের, ‘বাংলাদেশের সেরা ১৫ খেলোয়াড়ই খেলবে। এখন কে আসল আর কে গেল, সেটি দেখার বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে, আমাদের সেরা ১৫ খেলোয়াড় আমাকে দেওয়া হয়েছে কি না। আমি মনে করি, নির্বাচক ও আমরা সবাই মিলে মনে করেছি শান্ত সেরা ১৫ খেলোয়াড়ের একজন। এভাবেই নেওয়া হয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে সে নতুন খেলোয়াড় নয়। সে যখন সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছে, তখনো খারাপ করেনি। তার অনেক সেঞ্চুরি আছে, এমনকি অনেক হাফসেঞ্চুরিও আছে। এই ফরম্যাটে মানিয়ে নিতে তার সমস্যা হবে না। একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আমরা পেয়েছি, সেটি দলের জন্যই ভালো।’

এশিয়ান গেমসের ছেলেদের ক্রিকেটের মূল পর্ব শুরু হবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর হবে চারটি কোয়ার্টার ফাইনাল। বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল ২৯ সেপ্টেম্বর, যেখানে লিটন দাসের দল খেলবে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে। বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে জিতলে ১ অক্টোবর সেমিফাইনালে খেলবে। সেখানেও জয় পেলে ৩ অক্টোবর স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে নামবে তারা। ছেলেদের ক্রিকেটের সব ম্যাচই হবে জাপানের আইচি প্রিফেকচারের নিশিন শহরের কোরোগি পার্কে।

 ২০১০ সালে গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১৪ ও ২০২২ আসরে ব্রোঞ্জ জিতেছে। এবার সেই ব্রোঞ্জের রঙ বদলে আবারও সোনা জয়ের লক্ষ্য বাংলাদেশের।