চরম অর্থ সংকটে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত অর্থ না পেলেও এশিয়ান গেমসে ভ্রমণ বিলাস বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। এবার ২২টি ডিসিপ্লিনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে ২৬০ সদস্যের একটি দল। এর মধ্যে পুরুষ অ্যাথলেট ৯০, নারী অ্যাথলেট ৯৭ জন। সঙ্গে থাকছেন ৭৩ কর্মকর্তা। এর বাইরেও আরও অর্ধশতাধিক যাচ্ছেন বিভিন্ন পরিচয়ে। যদিও বলা হয়েছে, নিজেদের অর্থায়নে যাচ্ছেন বাকিরা। পদকের প্রত্যাশা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও বিওএ বলছে, শুধু পদক নয়, বড় আসরে অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভবিষ্যতের জন্য ক্রীড়াবিদ তৈরি করাও এবারের অন্যতম লক্ষ্য। তারপরও নাকি আরচারি, ক্রিকেট, শুটিং ও কাবাডিতে পদক জেতার আশা করছেন বিওএর কর্মকর্তারা।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দলগুলোর মধ্যে যাচ্ছে ক্রিকেট ও হকি। ক্রিকেটে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ৩০ খেলোয়াড়ের সঙ্গে থাকছেন ১১ কর্মকর্তা। হকিতে পুরুষ ও নারী দলের ৩৬ খেলোয়াড়ের সঙ্গে রয়েছেন ৯ কর্মকর্তা। নারী ফুটবল দলে থাকছেন ২৩ খেলোয়াড় এবং সাত কর্মকর্তা। কাবাডিতে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে ২৪ খেলোয়াড়, সঙ্গে ছয় কর্মকর্তা। আরচারিতে ১২ খেলোয়াড় ও চার কর্মকর্তা নিয়ে ১৬ সদস্যের দল যাচ্ছে। এ ছাড়া শুটিংয়ে ১২ খেলোয়াড়ের সঙ্গে চার কর্মকর্তা, ব্যাডমিন্টনে পাঁচ খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা, টেবিল টেনিসে ছয় খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা, ভারোত্তোলনে চার খেলোয়াড় ও তিন কর্মকর্তা এবং উশুতে চার খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা থাকছেন। সার্ফিংয়ে পুরুষ ও নারী একজন করে খেলোয়াড়ের সঙ্গে একজন কর্মকর্তা থাকছেন। সাঁতারে দুই খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা, অ্যাথলেটিকসে দুই খেলোয়াড় ও দুই কর্মকর্তা এবং বক্সিংয়ে দুই খেলোয়াড়ের সঙ্গে তিন কর্মকর্তা যাচ্ছেন।
এবারের আসরে বাংলাদেশের আটটি ডিসিপ্লিনের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে একটি ক্রুজ শিপে। আরচারি, জিমন্যাস্টিকস, জুডো, কাবাডি, ভারোত্তোলন, রেসলিং, টেবিল টেনিস ও উশুর সদস্যরা সেখানে থাকবেন। অন্য ডিসিপ্লিনগুলোর আবাসন করা হয়েছে বিভিন্ন হোটেল বা রিসোর্টে। বিওএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৬৫ কর্মকর্তা ও অফিসিয়াল অংশ নিতে পারবেন। সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ৪৫ অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা। উদ্বোধনী মার্চপাস্টে লাল-সবুজের পতাকা থাকবে শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরার হাতে।
কন্টিনজেন্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিওএর সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ বলেন, ‘দলগুলোর প্রস্তুতি ও ট্রেনিং পর্যবেক্ষণে আলাদা মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। একই সঙ্গে অ্যাথলেটদের জন্য অ্যান্টি-ডোপিং, সেফগার্ডিং এবং কম্পিটিশন ম্যানিপুলেশন বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও করা হয়েছে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের কোথায় কীভাবে থাকতে হবে, কী করা যাবে বা যাবে না এসব বিষয়েও দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা।’
তবে বড় কন্টিনজেন্ট নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পদকের সম্ভাবনা সীমিত হলে এত বড় বহর কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরোজ বলেন, ‘সব দেশ শুধু পদকের আশায় এশিয়ান গেমসে যায় না। অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। অনেক ডিসিপ্লিনে সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা থাকলেও ক্রীড়াবিদদের বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ দিতে চায় বাংলাদেশ।’ পদকের সম্ভাবনা নিয়ে বিওএর প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি কাবাডি, ক্রিকেট, শুটিং ও আরচারিকে ঘিরে। পাশাপাশি উশু, জুডো ও কারাতেতেও ভালো ফলের আশা রয়েছে ‘এশিয়ান গেমসে প্রতিদিনের পারফরম্যান্সই শেষ কথা; সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল আসতে পারে।’
অন্যদিকে কর্মকর্তা নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিওএর ব্যাখ্যা, কোচ ও ম্যানেজারসহ কর্মকর্তাদের মনোনয়ন দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন।