তরুণরাই দেশের রক্তসংকট মেটাতে পারে: ঢাবি উপাচার্য

‘আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশই তরুণ। এই তরুণরাই দেশের রক্তসংকট পুরোপুরি মেটাতে পারে। যদি তারা বছরে অন্তত একবার নিয়মিত রক্তদান করে, তবে আমাদের দেশে কখনোই রক্তসংকট হবে না।’

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর আইডিইবি ভবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে কমপক্ষে ৩ বার, ১০ বার, ২৫ বার এবং ৫০ বার রক্তদান করেছেন—এমন তিন শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে সম্মাননা জানানো হয়। স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রধান অতিথি এ সময় তাদের হাতে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও মেডেল তুলে দেন।

ঢাবি উপাচার্য আরও বলেন, ‘রক্তদাতা সম্মাননার এ আয়োজন নতুন বাংলাদেশ গড়তে নতুন ভাবনারই বিশেষ উপলক্ষ। দেশের সার্বিক রক্তচাহিদা পূরণে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। স্বেচ্ছা রক্তদাতারাই মানবিক বাংলাদেশ নির্মাণের পথপ্রদর্শক।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশপ্রেম শুধু আবেগ বা স্লোগানের বিষয় নয়; নিজের কাজ সততার সঙ্গে করা এবং দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হলো দেশপ্রেমের বাস্তব প্রকাশ।’

অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় রক্তদানের অনুভূতির কথা জানান ৫১ বারের প্লাটিনাম রক্তদাতা কাজী হাসান আলী, ২৬ বারের গোল্ডেন রক্তদাতা রেজেকা সুলতানা এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত নিয়মিত রক্তগ্রহীতা মাসুমা হোসেন তন্নী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের পরিচালক এম. রেজাউল হাসান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, সাড়ে পাঁচ লক্ষাধিক ডোনার পুলের কোয়ান্টাম ল্যাব ২০০০ সাল থেকে শুরু করে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১৮ লক্ষাধিক মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্ত ও রক্ত উপাদান দিয়ে সহায়তা করতে পেরেছে।

এর মধ্যে ৫০ বা তার বেশি বার রক্তদানকারী প্লাটিনাম দাতার সংখ্যা ১৯৬ জন, ২৫ থেকে ৪৯ বার রক্তদানকারী গোল্ডেন ডোনারের সংখ্যা ৩ হাজার ১৩৮ জন, ১০ থেকে ২৪ বার রক্তদানকারী সিলভার ডোনারের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৩ জন এবং কমপক্ষে ৩ বার রক্তদানকারী লাইফ লং ডোনার রয়েছেন ৫৮ হাজারের বেশি।

অনুষ্ঠানে কোয়ান্টাম ল্যাবের পক্ষ থেকে সব স্বেচ্ছা রক্তদাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আলোচকেরা। পাশাপাশি দেশে রক্তের চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে তরুণ স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের মানবিক এ সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আয়োজকেরা।