উপমহাদেশের প্রখ্যাত নজরুলসংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমের আজ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৪ সালের এই দিনে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান কালজয়ী এই কণ্ঠশিল্পী। ১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করা ফিরোজা বেগমের শৈশবে প্রাতিষ্ঠানিক গানের পরিবেশ না থাকলেও পারিবারিক সংগীতপ্রীতি তার ভিত গড়ে দেয়। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সান্নিধ্য পান এবং তার কাছ থেকে সরাসরি তালিম গ্রহণ করেন।
১৯৪২ সালে ১২ বছর বয়সে বিখ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি থেকে তার প্রথম গান প্রকাশ পায়। চিত্ত রায়ের সুরে ‘মরুর বুকে জীবনধারা কে বহাল’ গেয়েই সারা ফেলে দেন তিনি। পরে ১৯৪৯ সালে সর্বকালের জনপ্রিয় দুটি গান ‘দূরদ্বীপবাসিনী’ ও ‘মোমের পুতুল’ প্রকাশের মাধ্যমে নজরুলের গানের জগতে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের সূচনা করেন। নজরুল অসুস্থ হলে তার সুর ও শুদ্ধ স্বরলিপি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফিরোজা বেগম।
১৯৫৬ সালে গুণী সুরকার কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। পরে এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় তিন সন্তান তাহসিন, হামিন ও শাফিন আহমেদ। ১৯৭১ সালের ২০ জুলাই কমল দাশগুপ্তের প্রয়াণে তাদের ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে।
সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, শিল্পকলা একাডেমি স্বর্ণপদক এবং পশ্চিমবঙ্গের ‘বঙ্গ সম্মান’সহ অগণিত আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তার স্মৃতি ধরে রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত হয়েছে ‘ফিরোজা বেগম মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ড’, যা প্রতি বছর বরেণ্য শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করে আসছে।