ফেডারেশনের কমিটি নিয়ে আতঙ্কে সংগঠকরা!

দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে কমিটি দেওয়া নিয়ে চলছে নাটক। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পরও কোনো কমিটিতে পদের বদল হচ্ছে। কোনোটিতে মানুষ বদলে যাচ্ছে। আবার কোনো কোনো ফেডারেশনের পুরো কমিটিই পরিবর্তন করে দিচ্ছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। যা নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে সংগঠকদের মধ্যে।

দেড় বছর কাটিয়ে নতুন অ্যাডহক কমিটি পেয়েছিল বাংলাদেশ ক্যারম ফেডারেশন। কিন্তু সেই কমিটি দুই মাস না পেরুতেই এই ফেডারেশনে ফের নতুন অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বিষয়টি হাস্যরসের সৃষ্টি করলেও এমনটাই ঘটেছে। গত ১৮ জুলাই ২৭টি ক্রীড়া ফেডারেশনে নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। যার মধ্যে একটি ছিল ক্যারম। ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) মো. দৌলতুজ্জামান খাঁনের সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং- ৩৪.০৩.০০০০.০০০.০০৪.৫৫.০০০১.২৪.২৫) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এমএ মুহিতকে সভাপতি ও আজহারুল ইসলাম কনককে সাধারণ সম্পাদক করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি দেওয়া হয়। কিন্তু বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই কমিটির দুই মাস না পেরুতেই একই তারিখ ও স্মারক নম্বর দিয়ে নতুন আরেকটি অ্যাডহক কমিটি দিয়েছেন দৌলতুজ্জামান খাঁন। এবার কমিটির আকার বেড়ে দাঁড়ায় ২৯-এ। সভাপতি পদে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত থাকলেও পরিবর্তন আসে সাধারণ সম্পাদক পদে (মহিউদ্দিন মুহসীন)। দুই কমিটির প্রজ্ঞাপনের নিচেই লেখা ছিল তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করার। কিন্তু সেই সময় তাদের দেওয়া হয়নি।

সূত্র জানিয়েছে, সভাপতির মন মতো কমিটি হয়নি বলেই নতুন কমিটি ঘোষণার পথে হাঁটতে হয়েছে ক্রীড়া পরিষদকে। এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘কেন নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে, তার কারণ আমি বলতে পারব। নিশ্চয় কোনো কারণ ছিল বলেই দেওয়া হয়েছে। আর কমিটি নতুন বলেই আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। আগের কমিটির সময়ের সঙ্গে কোনো সামঞ্জস্য থাকবে না।’

এদিকে ১৮ জুলাই কমিটি ঘোষণার পর কাবাডিতে সহসভাপতি পদে সাবেক ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হকের নাম থাকলেও পরে তার নাম বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনে শারমিন আক্তার রতœাকে প্রথম যুগ্ম সম্পাদক থেকে নামিয়ে দ্বিতীয় যুগ্ম সম্পাদক করা হয় আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাই প্রজ্ঞাপনের এমন রদবদলে আতঙ্কে ভুগছেন বিভিন্ন ফেডারেশনের সংগঠকরা। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সংগঠক বলেন, ‘আমরা নিয়মিত এখন আতঙ্কে ভুগছি। কখন, কার পদ চলে যায়, কে বাদ পড়ে সেই ভাবনায় দিন গুনছি। এভাবে চললে আমরা ঠিক মতো কাজও করতে পারব না।