পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন: এখনও অচল বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট 

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) কার্যালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে পাইওনিয়ার বেজের সার্ভার রুমে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া আশপাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৫৭ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি।

আগুনে বায়েকের সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে সার্ভারের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, কম্পিউটার, এসি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পাইওনিয়ার বেজসহ আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এমনকি প্রকল্পের কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনেও পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) ও বায়েকের আন্তঃযোগাযোগে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। এতে প্রকল্পের স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সরকারি নথিপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। 

রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম পুড়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে রবিবার রাতের এই ঘটনা মঙ্গলবার রাতে জানাজানি হয়। অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কেউ কথা বলতে রাজি হননি। প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) কবীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।