রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্বেগ দূর করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৩৬ পিএম

রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষে এখন জ্বালানি লোডের প্রস্তুতি চলছে। দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালুর আগে স্থানীয় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন প্রশ্ন, ভুল ধারণা, উদ্বেগ ও কৌতূহলের সঠিক ও তথ্যভিত্তিক উত্তর দিতে জনসচেতনামুলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটমের যৌথ উদ্যোগে মাসব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিজ্ঞান উৎসব, গম্ভীরা পরিবেশনা এবং উঠান বৈঠক অনুষ্টিত হচ্ছে। যেখানে পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রসাটমের প্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসারি মতবিনিময়ের পাশাপাশি তাদের নানা প্রশ্নেরও জবাব দিচ্ছেন।

রসাটমের প্রেস কনসালটেন্ট ডা. ফরহাদ কামাল জানান, চলমান বিজ্ঞান উৎসবের অংশ হিসেবে রসাটম ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রতিনিধিরা একটি নান্দনিক পারমাণবিক থিমে ব্র্যান্ডিং করা বাসে করে বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণ করছেন। যাত্রাপথে তারা বিভিন্ন জনসমাবেশে অংশ নিয়ে মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

পাবনা জেলার সব উপজেলার মানুষ সরাসরি প্রকল্প প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা, পরিবেশগত দিক, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও সামাজিক-অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারছেন।

তিনি আরও জানান, জনগণের আগ্রহ বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে এবং দর্শকদের মধ্যে পারমাণবিক থিমের স্মারক সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি ঈশ্বরদী পারমাণবিক তথ্যকেন্দ্র এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ যৌথভাবে পারমাণবিক প্রযুক্তি বিষয়ক বিতর্ক ও প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করে।

রসাটম জানিয়েছে, এ মাসে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে জেলার বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে গম্ভীরা পরিবেশনা এবং উঠান বৈঠক। ‘টেকসই, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’-এই প্রতিপাদ্যে গম্ভীরা পরিবেশনার মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনায় রূপপুর প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।

উঠান বৈঠকের লক্ষ্য হলো স্থানীয় জনগণকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে অবহিত করা, সরাসরি আলোচনায় যুক্ত করা, তাদের প্রশ্নের সঠিক ও তথ্যভিত্তিক উত্তর প্রদান, উদ্বেগ ও শঙ্কা দূর করা এবং প্রকল্পের পক্ষে ইতিবাচক জনমত গড়ে তোলা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ জানান, দেশের সর্ববৃহৎ এই উন্নয়ন প্রকল্প সমগ্র জাতির জন্য গর্বের প্রতীক। বিশেষত পাবনাবাসীর জন্য এ প্রকল্পের গুরুত্ব আরও বেশি। স্থানীয় জনগণের মধ্যে এ প্রকল্পকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, ভুল ধারণা, উদ্বেগ ও কৌতূহল নিরসনে প্রকল্প সম্পর্কে সহজ, স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরার লক্ষ্যেই এসব আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রসাটম বিশ্বাস করে, ধারাবাহিক ও অংশগ্রহণমূলক জনসচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় এবং দেশের টেকসই উন্নয়নে প্রকল্পটির ভূমিকাও স্পষ্ট হবে। জ্বালানি লোডিংয়ের মধ্য দিয়ে শিগগির কেন্দ্রটি থেকে শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

প্রসঙ্গত, রাশিয়ার আর্ধিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট মিলে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম।

২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের হাতে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান তুলে দেয় রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক স্থাপনার স্বীকৃতি পায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ৩৩তম সদস্য হিসেবে পারমাণবিক ক্লাবে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত