রাতের ঘুম কেড়েছে চোরের দল: পাহারায় আনসার-ভিডিপি 

যশোরের মনিরামপুরে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধের ঘটনা বেড়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই উপজেলায় পুলিশের একার পক্ষে প্রতিটি গ্রামের মোড়ে মোড়ে পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও চুরির ঘটনা নিয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আলোচনা হলে উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তার উদ্যোগে একটি নৈশপ্রহরী দল গঠন করা হয়েছে। দলটির সদস্যরা রাত জেগে বিভিন্ন এলাকায় পাহারা দিচ্ছেন।

জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলায় ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক বাড়িতে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাও রাত জেগে নিজেদের এলাকা পাহারা দিচ্ছেন।

চলতি মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক কৃষক রাত জেগে নিজেদের গোয়ালঘর পাহারা দিচ্ছেন। চলতি মাসের উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে উপজেলাবাসীর জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা উদ্যোগ নিয়ে একটি নৈশপ্রহরী দল গঠন করেন। 

দলে মোট ৪০ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৮ জন স্বেচ্ছাসেবী সদস্য এবং ১২ জন ভিডিপি সদস্য। তাদের হাতে শক্তিশালী টর্চলাইট, লাঠি ও বাঁশি রয়েছে। বর্ষার কারণে রেইনকোটেরও প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের চারটি গ্রাম এবং পৌরসভার দুটি ওয়ার্ডে নৈশপ্রহরীরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।

সচেতন পৌরবাসীর অভিমত, এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবী যুবকদের দীর্ঘমেয়াদে কাজে ধরে রাখতে স্থানীয় পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে তাদের জন্য নির্দিষ্ট যাতায়াত ভাতা কিংবা রাতের নাশতার খরচ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘যেভাবে গোয়ালঘর থেকে গরু চুরি হচ্ছে, তাতে আমাদের মতো কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আনসার ভাইয়েরা যেভাবে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন, তাতে আমরা স্বস্তি বোধ করছি। এই বর্ষায় সবার রেইনকোট ও টর্চলাইট নেই। তারপরও তারা কষ্ট করে দায়িত্ব পালন করছেন।’

জানতে চাইলে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ দৈনিক দেশরূপান্তরকে বলেন, পৌর এলাকাসহ উপজেলার জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবীতার ভিত্তিতে একটি নৈশ প্রহরী দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। মনিরামপুর উপজেলা একটি বড় এলাকা। এ ব্যাপারে দলের সদস্যদের লজিস্টিক সাপোর্ট পেলে তারা কাজে আগ্রহ পাবে, যেহেতু তারা প্রশিক্ষণ শেষে বাড়িতে বেকার সময় কাটাচ্ছেন। আমাদের চল্লিশ জন সদস্য এই কাজে নিয়োজিত আছেন। ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে আমাদের সহযোগিতা করলে আমাদের কাজে কোন সমস্যা হবেনা আশা করছি।

মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ বলেন, আনসার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। তারা তো আমাদের কাজেই সহযোগিতা করছেন।