দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে উন্নয়নবঞ্চিত যশোরের ঐতিহ্যবাহী শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রস্তাবিত ‘যশোর জেলা শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পে অর্থায়নে সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উদ্যোগে এ বরাদ্দ এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-২ শাখা থেকে গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব উম্মে ইসরাত স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে প্রকল্পের অর্থায়নে সম্মতির বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, গত ২৭ আগস্ট অর্থ বিভাগে প্রকল্পটির অর্থায়নের বিষয়ে সম্মতি চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ প্রকল্পটির জন্য সর্বোচ্চ ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ের বিষয়ে সম্মতি দেয়। এ অর্থ সরকারি উন্নয়ন বাজেটের (জিওবি) অনুদান হিসেবে গণ্য হবে। একই সঙ্গে সংশোধিত ডিপিপির মাধ্যমে প্রকল্পে প্রয়োজনীয় জনবলের প্রস্তাব পাঠানো এবং প্রচলিত আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্টেডিয়ামটির অবকাঠামো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের নভেম্বরে একটি রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়ামের উত্তর পাশের গ্যালারির অংশবিশেষ ভেঙে ফেলা হয়। পরবর্তী সময়ে সেটি আর সংস্কার করা হয়নি বলে তারা জানান।
তবে ওই সময় স্টেডিয়ামের উন্নয়নে বড় ধরনের বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে স্থানীয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের দাবি।
এবার বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের খবরে যশোরের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্টেডিয়ামের অবকাঠামো আধুনিকায়নের পাশাপাশি খেলাধুলার পরিবেশও উন্নত হবে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দের কথা জানান। এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাহতাব নাসির পলাশ বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে স্টেডিয়ামটির উন্নয়নে বড় অঙ্কের বরাদ্দ পাওয়ায় তারা আনন্দিত। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক সমাবেশের জন্য স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভেঙে ফেলা হলেও দীর্ঘদিন তা পুনর্নিমাণ করা হয়নি। বর্তমান সরকারের সময় এ বরাদ্দ পাওয়ায় যশোরবাসীর পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট হয়নি। নতুন বরাদ্দের মাধ্যমে স্টেডিয়ামটি আধুনিকায়ন করা হলে জেলার ক্রীড়াবিদদের জন্য আরও ভালো সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।