দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এক মেয়াদে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য সামগ্রী ও অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত আগস্ট মাসে পরিচালিত এসব অভিযানে সর্বমোট ৩৪৭ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে সংস্থাটি।
উদ্ধারকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ৮ কেজি ৫৫৪ গ্রাম স্বর্ণ ও ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম সাপের বিষ। পোশাক ও সাজসজ্জার সামগ্রীর মধ্যে ২১,৬৪৬টি শাড়ি, ৩,৯৬২টি থ্রিপিস, শার্টপিস, চাদর ও কম্বল, ৫,১৫৪টি তৈরি পোশাক, ১,৮৮৭ মিটার থান কাপড়, ৫,৮৫১টি ইমিটেশন গহনা এবং ৬,০৬,২৪১টি কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করা হয়। এছাড়াও ১,০৪,৪৯৪ কেজি কয়লা, ৫৬,৬২২ কেজি জিরা, ১৮,৯৬০ কেজি রসুন, ১৩১ কেজি এলাচ, ৭,৯৭২ কেজি চিনি, ৩৪,০৫৭ কেজি সার, ১ লাখ ৮০ হাজার পিস চিংড়ির পোনা, ১০,৪০,১৯৬ পিস আতশবাজি, ১৮,৫০০ পিস জিলেট ব্লেড, ১১,৭৫৮টি চশমা, ৩,৭৮,২৩২ প্যাকেট চকলেট, ৭,৬৩৭ প্যাকেট বীজ, ১১,৪৫১ কেজি কারেন্ট জাল, ৫৬০ প্যাকেট কীটনাশক এবং ৬,০৪,৭৮৮ পিস ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যান্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে ৪,৭১১ ঘনফুট কাঠ, ৬১০ ঘনফুট পাথর, ৮,৬২৮ ঘনফুট বালু, ১৭,১৩০ কেজি চা পাতা, ৮,৭১৫ কেজি সুপারি, ৭৪৩ লিটার ভোজ্য ও জ্বালানি তেল এবং ৯টি কষ্টি ও বেলে পাথর। প্রযুক্তি ও যোগাযোগ সামগ্রীর মধ্যে ৪১৮টি মোবাইল ফোন, ৭,৮৪৮টি ডিসপ্লে ও ৩৪,১১১টি মোবাইলের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
চোরাচালানে ব্যবহৃত পরিবহনের মধ্যে ১৪টি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, ১০টি পিকআপ, ৬টি প্রাইভেটকার, ৩টি ট্রলি, ৬১টি সিএনজি, ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ঠেলাগাড়ি, ৯১টি মোটরসাইকেল, ৮৩টি বাইসাইকেল ও ভ্যান এবং ৯৭টি নৌকা জব্দ করেছে বিজিবি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীটি ১৪টি দেশি-বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন ও ৭৪ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযানে গত আগস্টে ৪৫,৯৩,৮৬৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত অন্যান্য মাদকের মধ্যে রয়েছে ১,৩৭১ বোতল ফেনসিডিল, ৭,৬৩৬ বোতল বিদেশি মদ, ৩৪৫ লিটার বাংলা মদ, ১,৭৫৬ ক্যান বিয়ার, ১,৮৬৩ কেজি ৬৮০ গ্রাম গাঁজা, ২,২৮,০৩৯টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশন, ২২,০০৬ বোতল সিরাপ, ১০,৬৪৩ পিস অন্যান্য ট্যাবলেট এবং ১,২৬,৬৬১ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট।
সীমান্তে বিজিবির এই জোরালো অভিযানে মাদক পাচার ও চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২০ জন চোরাচালানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৩৭ জন বাংলাদেশি, ৬ জন ভারতীয় এবং ১৮৮ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করা হয়। আটককৃত আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।