বিশ্বের সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে: রয়টার্স

একসময় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও বর্তমানে ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। খবর রয়টার্স’র।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামে উপসর্গ নিয়ে তিন জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংক্রামক ভাইরাসজনিত এই রোগ ও এর উপসর্গে এই তিন জন নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়াল। এ সময়ের মধ্যে ৬৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হাম উপসর্গ নিয়ে ৯০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সে হিসেব হিসেবে রেকর্ড ১,০০২ জনের মৃত্যু হলো।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুজন মারা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব চলছে বাংলাদেশে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি পরিবর্তন, পরিদর্শনের অভাব এবং ক্রয়সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তৈরি হয় টিকার ঘাটতি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সংসদে জানান, ২০২৪ সালে টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত হওয়া এবং পরের বছর দেশব্যাপী হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন বাতিল হওয়ায় শিশুরা ঝুঁকিতে পড়ে। বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সী শিশু, যাদের নিয়মিত টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি, তারা বেশি সংক্রমিত হচ্ছে। প্রথম দিকে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী।

মহামারী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে হামে এত শিশু মৃত্যুর ঘটনা নজিরবিহীন। এটি অত্যন্ত করুণ এক পরিস্থিতি। টিকাদানের ঘাটতি পূরণ ও সচেতনতা বাড়ানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

হামের পাশাপাশি ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণ দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে চূড়ান্ত সংকটে ফেলেছে। এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ।

 

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা জানান, ১,৩৫০ শয্যার হাসপাতালে এখন ২,৩৫০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন। হাম রোগীদের জন্য ৬০টি শয্যা থাকলেও অনেককে মেঝতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শিশু স্যালাইনের তীব্র সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভূক্তভোগী পরিবারগুলো হাসপাতাল ঘুরে সিট না পেয়ে এবং সঠিক তথ্যের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

গত এপ্রিলে শুরু হওয়া জরুরি টিকাদান অভিযানে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ১৯.৭ মিলিয়নের বেশি শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাদুর্ভাব থামাতে নিয়মিত টিকাদান ও ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন আরও জোরদার করা জরুরি। ডেঙ্গু ও হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের জোড়া ধাক্কা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নাজুক রূপকে উন্মোচিত করেছে।