ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড সেফটি এক্সপো শুরু ১৭ সেপ্টেম্বর

দেশের নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে ২য় ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো-২০২৬ এবং অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো-২০২৬। আগামী ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) ও প্রযুক্তিপণ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আই-স্টেশন লিমিটেড যৌথভাবে এ দুটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করছে।

আয়োজকরা জানান, প্রদর্শনীতে নিরাপত্তা প্রযুক্তি, অগ্নিনিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মান ও নীতিমালা অনুসরণের সর্বশেষ প্রযুক্তি ও সমাধান তুলে ধরা হবে।

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে ১০টি দেশের প্রায় ১৫০টি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড অংশ নেবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার ট্রেড ভিজিটরের সমাগম প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা খাতের জন্য এ প্রদর্শনী একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিলনমেলায় পরিণত হবে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিনিময়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

বিসিএসের সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর জন্য শক্তিশালী ও আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাঝুঁকিও বাড়ছে। তাই ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী পণ্য তুলে ধরবে। এতে দর্শনার্থীরা নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি জানার পাশাপাশি এর ব্যবহার ও সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

আই-স্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মধু সুদন সাহা বলেন, ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো-২০২৬-এ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থাপনার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও পণ্য প্রদর্শিত হবে। এর মধ্যে থাকবে সার্ভেইল্যান্স ও মনিটরিং সিস্টেম, সাইবার সিকিউরিটি, অ্যাকসেস কন্ট্রোল, বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি, সিকিউরিটি সফটওয়্যার, নেটওয়ার্কিং সুইচ, ডিজিটাল ভল্ট এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও সমাধান।

তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় স্মার্ট ও সংযুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এ বাস্তবতায় প্রদর্শনীটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে।

অন্যদিকে, একই সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো-২০২৬-এ শিল্প ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার বিভিন্ন আধুনিক সমাধান তুলে ধরা হবে। এতে পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি, ফায়ার ডিটেকশন ও প্রোটেকশন সিস্টেম, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কর্মক্ষেত্রের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সেফটি ও কমপ্লায়েন্স স্ট্যান্ডার্ড-সংক্রান্ত প্রযুক্তি ও পণ্য প্রদর্শিত হবে।

আয়োজকদের মতে, দেশে দ্রুত শিল্পায়ন, নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত থাকায় কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এ প্রদর্শনী শিল্পখাতের জন্য নতুন প্রযুক্তি ও কার্যকর সমাধান খুঁজে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।