মানুষের প্রকৃত মর্যাদা কোথায়

মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নিহিত তার জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ইমান ও চরিত্রে। এ কারণেই ইসলামে জ্ঞান ও জ্ঞানীদের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। পবিত্র কোরআনের সূচনাই হয়েছে ‘পড়ো’ শব্দের মাধ্যমে, যা জ্ঞানার্জনের গুরুত্বকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে জ্ঞানীদের মর্যাদা সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।

ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কী সমান হতে পারে?’ এই আয়াতটি জ্ঞানীদের অবস্থানকে সাধারণ মানুষের থেকে কতটা উঁচুতে তুলে ধরে, তা অনায়াসে বোঝা যায়। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহু স্তর উন্নত করবেন।’ (সুরা মুজাদালা ১১)

প্রকৃত জ্ঞানীদের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তারা আল্লাহকে ভয় করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাকে ভয় করে।’ (সুরা ফাতির ২৮)

প্রকৃত জ্ঞান যত বাড়বে, আল্লাহর প্রতি ভয়, শ্রদ্ধা ও আনুগত্যও তত গভীর হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) জ্ঞানীদের মর্যাদা সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন। এক হাদিসে তিনি ইরশাদ করেন, ‘আবেদের (ইবাদতকারীর) অপেক্ষা আলেমের মর্যাদা তেমন, যেমন তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির তুলনায় আমার মর্যাদা।’ (তিরমিজি শরিফ)

আরেক হাদিসে এসেছে, ‘আলেমদের জন্য সৃষ্টিজগতের সব কিছুই ক্ষমা প্রার্থনা করে। এমনকি সমুদ্রের মাছও।’

জ্ঞানীদের এতটাই উচ্চ মর্যাদা যে, সমগ্র সৃষ্টি তাদের জন্য দোয়া করে। সবচেয়ে বড় মর্যাদা হলো, আলেমরা নবীদের উত্তরাধিকারী। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আলেমরা নবীদের উত্তরাধিকারী। নবীরা দিরহাম বা দিনার অর্থাৎ বৈষয়িক কোনো সম্পদের উত্তরাধিকার রেখে যাননি। তারা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গেছেন ইলম তথা জ্ঞান। (সুনানে আবু দাউদ)

ইসলাম জ্ঞান ও জ্ঞানীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে। কোরআন-হাদিসের আলোকে আমরা দেখতে পাই, জ্ঞানীরা নবীদের উত্তরাধিকারী, সারা সৃষ্টি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহু স্তর উন্নত করেন।

লেখক : শিক্ষক ও ইসলামি গবেষক