তিন দেশ থেকে আসবে ১.১০ লাখ টন সার

বেলারুশ থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি ও সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৬৩৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪০ টাকা।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ

কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ছাড়াও সার আমদানির কাজ দিতে মেসার্স সুফলা ট্রেডিং করপোরেশন, ওসিপি নিউট্রিসাস এস এ মরক্কো এবং সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি, সৌদি আরব-কে সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটিতে সর্বমোট ১৮টি প্রস্তাব উপস্থাপিত ও আলোচিত হয়। মন্ত্রিসভা ক্রয় কমিটি এদিন রমজানের চাহিদা পূরণে ব্রান অয়েল ও ছোলা ক্রয়, বেনাপোল স্থলবন্দরের আধুনিকায়নে বরাদ্দ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণ এবং ৮টি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের, ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। এ সব ক্রয় প্রস্তাবে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ১ হাজার ৬০৬ কোটি ৬৭ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৫ টাকা। এর বাইরে পার্বত্য চট্টগ্রামের এক প্রকল্পে শুধু পরামর্শক ব্যয় হিসেবে ৫৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সার উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ফসফরিক এসিড (৩০ হাজার টন) আমদানির প্রস্তাব সভার কার্যপত্র থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

৮টি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ : দেশের ৮টি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের জাইকা অর্থায়নের আওতায় ডিজিটাল এক্স-রে, এনজিওগ্রাফি, গ্যাসট্রোগ্রাফি, কলনোস্কপি ও পিএসিএস/আরআইএস মেশিন ক্রয়ে ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে ২০২ কোটি ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৩০৬ টাকা। সুপারিশকৃত দরদাতা জাপানের ইরবিস ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন।

শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন দেশের ৮টি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের জাইকা অর্থায়নে এমআরআই, সিটি স্ক্যানার, ম্যামোগ্রাফি ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন ক্রয়ে ১৬৭ কোটি ১২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সুপারিশকৃত দরদাতা ফুজি ফিল্ম হেলথ্ কেয়ার এশিয়া প্যাসিফিক পিটিই লি. (সিঙ্গাপুর)।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণ : সিলেট বিভাগে ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন বিভিন্ন সড়ক, সেতু ও কালভার্টসমূহের জরুরি পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের দুটি পৃথক প্যাকেজে ১৪৩ কোটি ৪৭ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৪ টাকা। সুপারিশকৃত দরদাতা ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড।

বেনাপোল স্থলবন্দরের আধুনিকায়নে বরাদ্দ : বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্র্তৃপক্ষ কর্র্তৃক বাস্তবায়নাধীন এক্সিলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেকটিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (বাংলাদেশ অংশ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বেনাপোল স্থলবন্দরের ভবন নির্মাণ, ওয়্যারহাউজ, পরিবহন শেড, পার্কিং ও যাত্রীশেড নির্মাণে দুটি প্যাকেজের আওতায় যথাক্রমে ১২৭ কোটি ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৯৮৮ টাকা এবং ১৫০ কোটি ১৯ লাখ ৩১ হাজার ৯৫৭ টাকা ব্যয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সুপারিশকৃত দরদাতা মনিকো লিমিটেড ও কনফিডেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার পিএলসি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের এক প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় ৫৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা : বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্র্তৃক ৩ (তিন) পার্বত্য জেলায় বাস্তবায়নাধীন ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড নির্মাণ প্রকল্পের সাপোর্ট কনসালট্যান্ট বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭ কোটি ৯০ লাখ ১৭ হাজার ৬৫২ টাকা। সুপারিশকৃত দরদাতা নেপালের ইআরএমসি (প্রা.) লিমিটেড। সঙ্গে অংশীদার হিসেবে আরও রয়েছে বাংলাদেশের ডেবকনসালট্যান্টস লিমিটেড, আরণ্যক ফাউন্ডেশন এবং অনুসন্ধানি ক্রিডস নামের তিন প্রতিষ্ঠান।

রমজানের চাহিদা পূরণে ব্রান অয়েল ও ছোলা ক্রয় : আগামী রমজানকে সামনে রেখে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৯ হাজার টন ছোলা ক্রয়ের প্রস্তাব কমিটিতে অনুমোদন হয়েছে। ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ২১ লাখ ১২ হাজার ৮০০ টাকা। সুপারিশকৃত দরদাতা অস্ট-গ্রেইন এক্সপোর্টস পিটিওয়াই লিমিটেড। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে ১ (এক) কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল পেট বোতলে ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ব্যয় হবে ১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

সুপারিশকৃত দরদাতার মধ্যে রয়েছে গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি (২০ বিশ লাখ লিটার), প্রধান অয়েল মিলস (২০ বিশ লাখ লিটার), মজুমদার ব্রান অয়েল মিলস (৩০ লাখ লিটার) এবং অবশিষ্ট পরিমাণ সরবরাহ করবে মজুমদার প্রডাক্টস লিমিটেড।