বৃষ্টির তোড়ে ম্যাচ শেষের আনুষ্ঠানিকতাও ঠিকঠাক হলো না। মিরপুরের মিডিয়া ভবনের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে পাশাপাশি বসে দুই দলের ক্রিকেটাররা। ততক্ষণে অবশ্য কানাঘুষা শুরু হয়ে গেছে, জিডি ট্রফির ফাইনাল ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও শিরোপা উঠছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হাতেই।
গতকাল ৩ দলীয় টুর্নামেন্টের এই ট্রফি নিয়ে যখন উল্লাসে ব্যস্ত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা, তখন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড়রা মলিন মুখেই ছোটদের অভিনন্দন জানান। ফাইনালে যদিও হারেননি তারাও। বৃষ্টির কারণে পণ্ড হয় খেলা। তবে টুর্নামেন্টের নিয়মে লিগ পর্বে বেশি পয়েন্ট পাওয়ায় চ্যাম্পিয়ন হয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এতে শিরোপার সঙ্গে সাহস ও অভিজ্ঞতাও অর্জন করল যুবারা।
এর ব্যাখ্যায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হান্নান সরকার বলেন, ‘আমাদের দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় প্রথমবার মিরপুরে খেলার সুযোগ পেয়েছে। এই অভিজ্ঞতা তাদের পরবর্তী সময়ে সাহায্য করবে। পাশাপাশি সিনিয়রদের সঙ্গে খেলার সুযোগ পেল। আমাদের এই ব্যাচের বেশিরভাগ খেলোয়াড় তৃতীয় বিভাগে খেলে। অনেক খেলোয়াড় আছে, এখনো পর্যন্ত কোনো লিগেই খেলেনি। তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সঙ্গে খেলা, যেখানে সব খেলোয়াড় প্রিমিয়ার লিগের। তাদের সঙ্গে খেলার মাধ্যমে যে সাহস আর অভিজ্ঞতাটা, সেটা ভবিষ্যতে কাজে দেবে।’
গতকালের ফাইনালে টস জিতে ব্যাট করা অনূর্ধ্ব-২৩ দল ২৪৫ রানে অলআউট হয়। আব্দুল্লাহ সিফাত ৪৭, আহরার আমিন পিয়ান ৪৬, দেবাশীষ সরকার দেবা ৪৩ ও মাহফুজুর রহমান রাব্বি ৩১ রান করেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে তাফিউল আলম তামিম একাই নেন ৬ উইকেট। শেখ আতিকুর রহমানের শিকার তিনটি। জবাবে অনূর্ধ্ব-১৯ দল বৃষ্টির কারণে ১৭ ওভার ২ বলে ৫ উইকেটে ৯৯ রান করার পর আর খেলা সম্ভব হয়নি। এতে পরিত্যক্ত হয় ম্যাচ।
তবে ফলের চেয়েও এই টুর্নামেন্ট থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে বড় করে দেখছেন হান্নান। প্রীতি ম্যাচের চেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে তরুণদের শেখার সুযোগ বেশি বলেই দাবি করেন যুবদলের প্রধান কোচ, ‘টুর্নামেন্ট আর প্রীতি ম্যাচের মধ্যে কিন্তু পার্থক্য থাকে। টুর্নামেন্টে নিশ্চিতভাবেই আলাদা একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ থাকে এবং সেখানে অনূর্ধ্ব-১৭ হয়তো একটু ছোট ছিল, তবে তবুও তাদের জন্য এটা একটা বড় অভিজ্ঞতা ছিল। আর আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ, এই জন্য যে, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সঙ্গে খেলা নিশ্চিতভাবেই আমাদের জন্য একটা বড় অভিজ্ঞতা।’