ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ আসর চ্যাম্পিয়নস লিগ তার চেনা রোমাঞ্চ নিয়েই শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী রাতের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি এবং অ্যাস্টন ভিলার মতো জায়ান্টরা জয় পেলেও প্রতিটি দলকেই লড়তে হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিপক্ষে। বার্নাব্যুতে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে রিয়ালের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে শেষ মুহূর্তে, পোর্তোর মাঠে সিটি জিতেছে সুনির্দিষ্ট ছকে, আর ক্লাব ব্রুগার মাঠে ভিলাকে লড়তে হয়েছে শেষ বাঁশি পর্যন্ত।
কোর্তোয়ার দেওয়ালে লিখে রিয়ালের ইন্টার পাস : সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কোচ হোসে মরিনহোর সাবেক ক্লাব ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ম্যাচটিকে কোনোভাবেই স্বস্তির শুরু বলতে পারবে না রিয়াল মাদ্রিদ। দুই গোলকিপারের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স আর রক্ষণভাগের হাস্যকর ভুলেখচিত এই ম্যাচে ৩৭টি শটের ফুলঝুরি ছুটলেও শেষ পর্যন্ত থিবো কোর্তোয়ার অন্তিম মুহূর্তের অসাধারণ সেভে ভর করে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন লস ব্লাঙ্কোসরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ইন্টারের ডিফেন্ডার-গোলকিপারদের ভুলে কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ফেদে ভালভার্দের গোলে ২-০ লিড পায় রিয়াল। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। এর কিছুক্ষণ পরেই সফরকারীদের গোলকিপার জোসেপ মার্তিনেজের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নিয়ে ফাঁকা জালে বল ঠেলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভালভার্দে।
দ্বিতীয়ার্ধে কামব্যাক করে ইন্টারের ব্যবধান কমান কার্লোস আগুস্তো। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে হেনরিখ মিখিতারিয়ানের একটি ডিফ্লেক্টড শট দুর্দান্তভাবে রুখে দিয়ে রিয়ালকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেন ম্যান অব দ্য ম্যাচের দাবিদার কোর্তোয়া।
ঝুম বৃষ্টিতে পোর্তোকে ভাসাল সিটি : পর্তুগালের এস্তাদিও দো দ্রাগাও স্টেডিয়ামটি ম্যানচেস্টার সিটির বেশ চেনা। বছর পাঁচেক আগে ২০২১ সালে এখানেই চেলসির কাছে ১-০ ব্যবধানে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল হেরেছিল তারা। সেখানেই ফিরে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে স্বাগতিক পোর্তোকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শুরুটা দারুণ করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রেকর্ড ট্রান্সফারে ক্লাবে যোগ দেওয়া আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী তারকা এনজো ফার্নান্দেজের নিখুঁত ক্রসে হেডে গোল করে ডেডলক ভাঙেন নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। সিটিজেনদের জার্সিতে এটিই এনজোর প্রথম অ্যাসিস্ট। এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নামা রিয়ান আইত-নৌরির পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন হালান্ড। এই জোড়া গোলের সুবাদে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫৯ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৫৯টিতে।
তবে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি প্রথমার্ধের শেষ দিকে খেলোয়াড়দের হাতাহাতি এবং টানেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ম্যাচটিকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যায়। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ বেঞ্চের আচরণ ও উয়েফার সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন সিটির কোচ এনজো মারেস্কা। ব্রুগার মাঠে ঘাম ঝরানো জয় ভিলার : ক্লাব ব্রুগারর মাঠে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে উনাই এমেরির দল। ম্যাচের শুরুতেই ১১ মিনিটে অদ্ভুত এক পরিস্থিতিতে ডেডলক ভাঙে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা ইনজুরি নিয়ে পড়ে থাকা সতীর্থকে কেন্দ্র করে খেলা থামিয়ে দিলেও, পল তোরেসের বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত শটে ভিলাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অধিনায়ক জন ম্যাকগিন। এর কিছুক্ষণ পর ১৯ মিনিটে হিউগো ভেলটেসেনের গোলে সমতা ফেরায় ব্রুগা। তবে সমতা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া; ২২ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে বল জালে জড়িয়ে ভিলাকে ২-১ ব্যবধানে আবার এগিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় উনাই এমেরির দল। এই গোলের সুবাদে ৩-১ ব্যবধানে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইংলিশ ক্লাবটি। তবে ফেরার চেষ্টায় একের পর আক্রমণ চালায় স্বাগতিকরা। সেটি কিছুটা কাজেও লাগে। ৬০ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর অ্যারন ওয়ান-বিসাকা হ্যান্ডবল করলে পেনাল্টি পায় ব্রুগা, সেখান থেকে নিখুঁত স্পট কিকে ব্যবধান ৩-২ করেন নিকোলো ত্রেসোদি। এরপর বাকি সময়ে ব্রুগ সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও ভিলার ডিফেন্স ও গোলরক্ষক জিওন সুজুকির দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভিলা।