মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ছয় মাস ধরে চলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের মধ্যে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে দুই দেশের সাম্প্রতিক হামলার পর তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাবেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। খবর আলজাজিরার।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৭ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৩৪ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৫৫ ডলারে ওঠে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মজুতও কমছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন বুধবার চলতি বছর ও আগামী বছরের তেলের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছর বিশ্ববাজারের প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম স্পট মার্কেটে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯১ ডলার হতে পারে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি প্রায় ৫ শতাংশ বেশি।
এদিকে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৬৫ ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জ্বালানি তথ্য প্রশাসন। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটিও প্রায় ৫ শতাংশ বেশি।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের এই প্রতিবেদনটি ৩ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত করা হয়েছিল। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আগেই এই পূর্বাভাস তৈরি করা হয়। ফলে পরবর্তী পরিস্থিতিতে তেলের বাজারে এর প্রভাব কতটা বাড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।