তোরেসের হ্যাটট্রিক ও দেম্বেলের জোড়ায় চ্যাম্পিয়নদের গোল উৎসব

ফ্রেঞ্চ লিগে ধুঁকতে থাকা টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী পিএসজি ইউরোপের মঞ্চে নামতেই খুঁজে পেল নিজেদের চেনা ছন্দ। স্লোভান ব্রাতিস্লাভার বিপক্ষে পার্ক দে প্রিন্সেসে রীতিমতো গোল উৎসব করল ফরাসি জায়ান্টরা। চলতি মৌসুমে যোগ দেওয়া বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড ফেররান তোরেসের চোখ জুড়ানো হ্যাটট্রিক আর ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত জোড়া গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টের ৬-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ডিফেন্সের মিশন শুরু করল লুইস এনরিকের দল।

লিগ ওয়ানে শুরুর তিন ম্যাচে যখন জয়ের মুখ দেখেনি তখন চ্যাম্পিয়নস লিগেও পিএসজির ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে ছিল শঙ্কা। তবে প্রতিপক্ষের জালে হাফ-ডজন গোল দিয়ে দেম্বেলে-রুইজরা বুঝিয়ে দিলে তারা আক্ষরিক অর্থেই নেমে পড়েছে নিজেদের হ্যাটট্রিক শিরোপার লড়াইয়ে। 

ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা পিএসজি প্রতিপক্ষের রক্ষণকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে। পুরো ম্যাচে ৩৫টি শট নেওয়া ফরাসি দলটির গোলের খাতা খোলে ম্যাচের ১৭ মিনিটে। বাঁ প্রান্ত থেকে নুনো মেন্দেসের জোরালো ও সুইং করা শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে, বক্সের ভেতর দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন দেম্বেলে।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের ২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। ১৮ বছর বয়সী তরুণ মিডফিল্ডার ড্রো ফার্নান্দেজের ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন দেম্বেলে। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-০।

খেলার ধারায় কেবল গোল করেই থেমে থাকেননি এই ফরাসি উইঙ্গার, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর কারিগরও হয়ে ওঠেন তিনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দেম্বেলে বাঁ দিক থেকে বক্সে এক দারুণ ক্রসে বল ফেললে, সেখানে সুযোগ সন্ধানী তোরেস ট্যাপ-ইন করে বল জালে জড়িয়ে দেন। নতুন ক্লাবে ইউরোপিয়ান অভিষেকে এটি ছিল স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ডের প্রথম গোল।

বিরতির পর ফিরে এসেই নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি আদায় করে নেন তোরেস। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে ম্যাগনেস আকলিউশের পাস দারুণ এক ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি বক্সের কোণ থেকে অসাধারণ এক কার্ল শটে বল জালে জড়ান এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। এরপর ৫৭ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত হেডে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তোরেস।

ম্যাচের ৬৩ মিনিটে স্লোভানের হয়ে একটি গোল শোধ করেন সুলেইমান কামারা। ডি বক্সের ভেতর বল পেয়ে নিজের ডান পায়ে শিফট করে তিনি সরাসরি বল টপ কর্নারে পাঠিয়ে ব্যবধান ৫-১ করেন। তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে স্লোভানের রক্ষণভাগের ভুলে বল পেয়ে গিয়ে জোরালো শটে পিএসজির হয়ে ৬-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন ফ্যাবিয়ান রুইজ।

ম্যাচে জোড়া গোল ও জোড়া অ্যাসিস্ট করে মাঠের আসল নায়ক বনে যাওয়া দেম্বেলে ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আজকের পারফরম্যান্সে আমি ভীষণ খুশি। মৌসুমের শুরুতে বেশ কঠিন একটা সময় পার করেছি, যেখানে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাইনি। আজ মাঠে ৬০ মিনিট খেলতে পারাটা এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে পারাটা দারুণ এক অনুভূতির।’

এদিকে পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে তার শিষ্য দেম্বেলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘আজকে সে ঠিক আমাদের চেনা সেই ওসমান ছিল, যে গত তিন বছর ধরে দলের জন্য খেলে চলেছে। তার সৃষ্টিশীলতা এবং ডিফেন্স ভাঙার ক্ষমতা প্রতিপক্ষকে সবসময় কোণঠাসা করে দেয়।’

অন্যদিকে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পরও পিএসজির শক্তির প্রশংসা করতে কার্পণ্য করেননি স্লোভান কোচ ইয়ায়া তোরে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আজ ডেম্বেলে দুই শ শতাংশ উজাড় করে খেলেছে এবং আমাদের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। সে এক দুর্দান্ত ফুটবলার। আমার খেলোয়াড়েরা আজ প্রিমিয়ার লেভেলের ফুটবল কাকে বলে, তার এক দারুণ শিক্ষা পেল।’

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনটাও ছিল যেন দেম্বেলেময়। লিগ মৌসুমের শুরুতে ধুঁকতে থাকা ফরাসি জায়ান্টরা যেন খুঁজে পেল নিজেদের অস্তিত্ব। সেখানে তোরেস হ্যাটট্রিক করে শিরোনাম বনে গেছেন ঠিকই, তবে দেম্বেলে নজর কেড়েছেন আলাদাভাবেই।