চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণ এবং পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী এবং নতুন করে ৩,০৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। এবারের পুনর্নিরীক্ষণে শুধু জিপিএ-৫ নয়, অনুত্তীর্ণ বা ফেল করা শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও বড় পরিবর্তন এসেছে।
এদিকে এ বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে লিখিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি।
এবার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। এত দিন বোর্ডের নিয়মে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না।
এর আগে, গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘদিন তুলনামূলক উচ্চ পাসের হার থাকার পর দুই বছর ধরে এসএসসির ফল কিছুটা নিম্নমুখী। এবার শুধু ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে প্রায় ১৯ হাজার।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি। ফলে পাসের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা বেশি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনেও।
ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে গত ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি আবেদন করেছে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন জমা পড়েছে।
আবেদনকারীরা তিন উপায়ে ফল জানতে পারবেন। এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর পুনঃনিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল আগামী ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।
এছাড়া নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেও ফল জানা যাবে। এ জন্য আবেদনকারীদের https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফল সংগ্রহ করতে হবে।