২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পরপরই মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাসে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকেই স্কুলের মাঠজুড়ে জমায়েত হতে শুরু করেন পরীক্ষার্থী ও উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। সকাল ১০টায় সরকারিভাবে একযোগে দেশব্যাপী ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে নিজেদের ফলাফল জেনে নেওয়া শুরু করে। কাঙ্ক্ষিত ফল জেনে তারা মেতে ওঠেন আনন্দ-উৎসবে। সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কোলাকুলি, মিষ্টিমুখ আর নাচ-গানে পুরো স্কুল প্রাঙ্গণ এক মুহূর্তেই যেন উৎসবের মাঠে পরিণত হয়।
দুপুর ১টা ১০ মিনিটে স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে ফলাফল ঘোষণা করেন স্কুলের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদ। এবছর পাশ করেছে ২৭২৩ জন, পাশের হার ৯৮.০২ % এবং জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা ১৪শ ৯০ জন।
রেজাল্টের এসএমএস এর অপেক্ষায় থাকা ওই কয়েকটা মিনিট যেন শেষই হতে চাইছিল না শিক্ষার্থী রাফসান জামি আবরারের। ফোনে মেসেজটা আসতেই বুকের ওপর থেকে যেন মস্ত বড় একটা পাথর সরে গেল। আবরারের অকপট স্বীকারোক্তি-পরিশ্রম তো করেছিই, কিন্তু শিক্ষক আর বাবা-মা পাশে না থাকলে এই দিনটা দেখাই হতো না।
ওদিকে স্কুলের মাঠেই ফোনে ফিরতি মেসেজে জাবের ইবনে জালাল দেখল সে 'এ প্লাস' পেয়েছে! আনন্দে চারপাশ কাঁপিয়ে বন্ধুদের সাথে সেই যে চিৎকার, তারপর মাঠজুড়ে শুরু হলো নাচ-গান আর মিষ্টিমুখের উৎসব।
মাঠে বসে থাকা অভিভাবকদের চোখেও তখন জল আর মুখে স্বস্তির হাসি। অভিভাবক মো. রফিকুল ইসলাম নিজের আবেগ চেপে রাখতে পারছিলেন না। ভেজা চোখে বললেন, একজন বাবার কাছে আজকের অনুভূতিটা ভাষায় বোঝানো অসম্ভব। সকালের পুরো টেনশনটা এক লহমায় কী ভীষণ এক স্বস্তিতে বদলে গেল!
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নাসরিন সুলতানার চোখেমুখেও তখন গর্ব। তিনি যোগ করলেন, আমাদের সন্তানদের দিনরাত এক করা মেহনত আর শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ এই দিনটা দেখতে পেলাম।
আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানা যায়, এ বছর প্রতিষ্ঠানটির মতিঝিল, বনশ্রী ও মুগদা শাখা এবং বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম মিলিয়ে মোট ২,৭৮২ জন শিক্ষার্থী (১,৫৯৮ জন বালক ও ১,১৮৪ জন বালিকা) পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও মোট পরীক্ষায় অংশ নেন ২৭৭৮ জন। অনুপস্থিত ছিল ৪জন। যার মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ২,৫৪১ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৪১ জন শিক্ষার্থী ছিল।
২০২৫ সালের এসএসসিতে এ প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২ হাজার ৬৪০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছিল ২ হাজার ৫৮৬ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছিল ৫৪ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১,৫৪৯ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
এর আগের বছর (২০২৪ সাল) মোট ২ হাজার ৪১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিল, যার মধ্যে পাস করেছিল ২ হাজার ৪০১ জন। পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১,৯৫৬ জন শিক্ষার্থী (মোট পরীক্ষার্থীর ৮০ শতাংশ)।
