বছরের পর বছর চলতে পারে ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পকে উপদেষ্টাদের সতর্কতা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কয়েক বছর ধরে চলতে পারে, এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়জুড়েও তা অব্যাহত থাকতে পারে—ব্যক্তিগত আলোচনায় এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। খবর আনাদোলু এজেন্সির। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, নৌ অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক অভিযান সত্ত্বেও তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলা করে যেতে পারে।

তবে কর্মকর্তাদের এই অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধ ‘অবিলম্বে’ শেষ হয়ে যাবে। তার দাবি, ‘তারা আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।’

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এরই মধ্যে সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রে বুধবার প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২২ ডলার। এক মাস আগে যা ছিল ৪ দশমিক ১ ডলার এবং এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ১৯ ডলার। মার্কিন অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ট্রাম্প বারবার দ্রুত যুদ্ধের অবসান চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে বৃহত্তর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখছেন তিনি। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই কৌশলকে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিকল্প।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস প্রশাসনের নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছেন এবং ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌ অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশটির অবশিষ্ট অর্থনীতিকেও দুর্বল করে দিচ্ছেন। তবে কখন এবং কীভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা একমাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই জানেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সও যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এমন একটি দেশের বিরুদ্ধে কৌশল ও সময়সূচি প্রকাশ করা দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে, যে নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে না এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করছে না।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটের অবস্থান নির্দিষ্ট কোনো শেষ তারিখ ছাড়াই বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। এ ছাড়া চলতি শরতে তৃতীয় একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও ওই অঞ্চলে পাঠানোর কথা রয়েছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সুজান ম্যালোনি মনে করেন, নৌ অবরোধের মাধ্যমে দ্রুত কোনো নির্ণায়ক ফল পাওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, নৌ অবরোধে নিকট বা এমনকি মধ্যমেয়াদেও দ্রুত কোনো চূড়ান্ত ফল আসার সম্ভাবনা কম। তাই এই কৌশল কার্যকর করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

তবে এমন কৌশল সফল হওয়ার সম্ভাবনাও খুব বেশি নয় বলে মনে করেন ম্যালোনি। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি অবরোধের অনিচ্ছাকৃত ও অপ্রত্যাশিত পরিণতির কথা উল্লেখ করেন।