এই সংসদে ভিন্নমত প্রকাশ করা যায় না: রুমিন ফারহানা

জাতীয় সংসদে ভিন্নমত প্রকাশের মতো গণতান্ত্রিক পরিবেশ পাওয়া যাচ্ছে না বলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর)  বিলের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বুধবার সহকর্মীদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, নিজের বক্তব্য দেওয়ার পর সহসংসদ সদস্যদের অসংবেদনশীল ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই সাংসদ বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তাতে এই সংসদে কোনো “ডিফারেন্ট ভয়েস রেইজ” (ভিন্নমত প্রকাশ) করা যায় বলে মনে হয় না। আমি কথা বলার পরে সংসদে যে ধরনের আচরণ আমি লক্ষ্য করেছি, সেটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সংসদে হয় না।’

‘আমার কথার কোনো “কাউন্টার” (পাল্টা বক্তব্য) থাকলে সেটা দাঁড়িয়ে বলা যেত। আমি বক্তব্য দেওয়ার পর বক্তব্য দেওয়া যেত। শুধু তাই নয়, মাননীয় স্পিকার, মহান সংসদে আমার আশেপাশের সাংসদগণ অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন। এটি কোনো সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না,’ অভিযোগ করেন তিনি।  

রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, সংসদের বর্তমান যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে কোনো স্বতন্ত্র বা ভিন্নমত প্রকাশ করার পরিবেশ বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের অতীত অভিজ্ঞতা স্মরণ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির একক সদস্য হিসেবে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে গিয়েও তাকে একই ধরনের জঘন্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

‘গণঅভ্যুত্থান ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গঠিত নতুন সংসদেও যদি কোনো কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বা আচরণগত পরিবর্তন না আসে, তাহলে শুধু নামমাত্র বিরোধী দলে থেকে “না” ভোট দেওয়ার জন্য সংসদে থাকার কোনো মানে হয় না,’ ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

সংসদে মৃদ্যু গুঞ্জনের এ পর্যায়ে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সদস্যের বক্তব্য শোনেন এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। রুমিন ফারহানার ক্ষোভ প্রকাশকে সম্মান জানিয়ে স্পিকার আশ্বাস দেন যে, সংসদে কারো বাকস্বাধীনতায় বাধা দেওয়া হবে না। এরপর তিনি এমপিকে শান্ত থেকে বিলের বিষয়ে নিজের নির্ধারিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান।