নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, দুই কক্ষেই জয়ী হলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় হতে পারে ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। খবর বিবিসির।
রিপাবলিকান পার্টির যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মেয়াদকালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এ প্রতিশ্রুতি দেন।
তবে এই অর্থ কীভাবে দেওয়া হবে বা এর অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। শুধু বলেছেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই খরচ করতে হবে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই পরিকল্পনাকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক থেকে অর্জিত রাজস্বের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ‘ফাঁকা প্রতিশ্রুতি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যরাও প্রশ্ন তুলেছেন, এমন পরিকল্পনা আদৌ আইনসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য কি না।
নির্বাচনের বছরে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সরাসরি অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম হতে পারে।
সম্মেলনে ট্রাম্পের ঘোষণায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। হলভর্তি সমর্থকদের করতালিতে ট্রাম্পকেও বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৭ কোটি। সে হিসাবে প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দিতে হলে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
এরই মধ্যে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবেও দেশটিতে পণ্যের দাম বাড়ছে।
হরমুজ প্রণালির অবরোধে বিশ্বজুড়ে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা শুরু হয়েছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য নিজ দলের ভেতর থেকেও ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে।
বুধবার ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের সতর্ক করে বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না এবং তার আগে তেলের দামও কমবে না।
টেক্সাসে দেওয়া ভাষণের আগে তিনি এ মন্তব্য করেন। পরে রিপাবলিকান সম্মেলনেও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তেহরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করা মূল্যবান।
টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকানদের সম্মেলনে দীর্ঘ ভাষণে ট্রাম্প যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক, মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। এর পরই মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলে সম্মেলনস্থলে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
ট্রাম্প বলেন, ‘রিপাবলিকানরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ ও যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট দুই কক্ষেই জয়ী হয়, তাহলে আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের লভ্যাংশ দেব।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা যেন এই অর্থ খরচ করতে কানাডায় না যান। আমরা চাই না আপনারা চীন বা জার্মানিতেও গিয়ে এই অর্থ খরচ করুন। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রেই খরচ করতে হবে।’
তবে কীভাবে এই অর্থ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে খরচ করা হচ্ছে, তা নজরদারি করা হবে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প।