সরকারি কর্মচারী নিয়োগে (গ্রেড ১১-২০) মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনে দলীয়করণের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি নোটিশ দিয়েছেন আখতার হোসেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর তিনি নোটিশটি দেন।
নোটিশে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী নিয়োগবিধিমালা অনুযায়ী গ্রেড ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার বিপরীতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা উদ্বেগজনক।
আখতার হোসেন বলেন, দেশের লাখ লাখ বেকার তরুণ মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন কর্মসংস্থানের প্রত্যাশায় রয়েছেন। এ অবস্থায় ভাইভা পরীক্ষার নম্বর অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নোটিশে আরও বলা হয়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার তুলনায় মৌখিক পরীক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলে লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফল করা প্রার্থীরাও চূড়ান্ত নিয়োগে পিছিয়ে পড়তে পারেন। এতে ব্যক্তিনির্ভর বা প্রভাবনির্ভর মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আখতার হোসেনের অভিযোগ, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা দুর্বল করে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি সরকারি সেবা খাতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নোটিশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতি প্রস্তাবটি বাতিল করে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
নোটিশের শেষাংশে বলা হয়, তরুণদের মেধার সঙ্গে এমন ‘নিষ্ঠুর প্রহসন’ করা হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণের আশঙ্কাজনক প্রস্তাব অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ কাঠামো নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।