পুনর্নিরীক্ষণে ২৭ হাজার ৮৩৬ শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৮৫ জন। আর নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। এ ছাড়া ৫৬ হাজার ২৫৯ শিক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশের পর এসব তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবীর জানান, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন পরীক্ষার্থী। তারা মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি বিষয়ে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে। এর মধ্যে লিখিত বা তত্ত্বীয় পরীক্ষার জন্য আবেদন ছিল ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আবেদন পড়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৬৮টি।

পুনর্নিরীক্ষণের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের। গ্রেড পরিবর্তনের মধ্যে ৪ হাজার ৮৫ জন পরীক্ষার্থী আগে ফেল করলেও নতুন ফলে পাস করেছে। অন্যদিকে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

ঢাকা বোর্ডে আবেদন সবচেয়ে বেশি : একক বোর্ড হিসেবে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য সবচেয়ে বেশি আবেদন করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে। তাদের মধ্যে ৮ হাজার ৯৯৯ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯০৬ জন। তবে ফেল থেকে পাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন এসেছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণের পর ১ হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৭৭ জন। এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ২৫৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাস করেছে।

এবার পুনর্মূল্যায়নও : এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে। এতদিন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে মূলত উত্তরপত্রে প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। এবার আবেদন করা শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।

ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য গত ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন পরীক্ষার্থী মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি আবেদন করে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৬৮টি আবেদন জমা পড়ে।

তিনভাবে ফল : পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল তিনভাবে জানা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া আবেদনকারীর দেওয়া মোবাইলফোন নম্বরে এসএমএস পাঠানো হয়েছে। অনলাইনেও নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে ফল দেখা যাচ্ছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন এবং ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তনের তথ্য এসেছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮৫ জনের ফেল থেকে পাস এবং ৩ হাজার ৭৯ জনের নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনা রয়েছে। এবারের পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকায় ফল পরিবর্তনের এই চিত্র সামনে এসেছে।