শিক্ষার্থীদের গণিত, বিজ্ঞান ও পড়ার দক্ষতার আন্তর্জাতিক এক মূল্যায়নে সবচেয়ে ভালো করেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষা মূল্যায়ন পরীক্ষায় (পিআইএসএ) এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। ১৫৭টি স্কুলের ৬ হাজার ৫৫১ শিক্ষার্থীর
কৃতিত্বের ওপর ভিত্তি করে এই ফল নির্ধারণ করা হয়। শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর তালিকায় এশিয়ার দেশগুলোর শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। সিঙ্গাপুরের পরে রয়েছে চীন, জাপান ও তাইওয়ান। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের একই ধরনের মানদ-ে মূল্যায়ন করার কারণে পিআইএসএকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তুলনামূলক মানদ- হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পিআইএসএ হলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষা মূল্যায়ন কর্মসূচি। এতে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের অর্জিত জ্ঞান কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারে, তা যাচাই করা হয়। প্রতি ৩ বছর পরপর ৮০টির বেশি দেশ ও অর্থনীতিতে পিআইএসএ মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানত গণিত, বিজ্ঞান ও পড়ার দক্ষতা যাচাই করা হয়। পিআইএসএ শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু মুখস্থ করার সক্ষমতা নয়, বরং অর্জিত জ্ঞান বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেয়।
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত ওইসিডির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গণিত, পড়ার দক্ষতা (রিডিং) এবং বিজ্ঞানের নম্বর বা স্কোর বেশ কমে গেছে। মহামারির ঠিক পরপরই অনুষ্ঠিত আগের ধাপের পরীক্ষায় গণিত, রিডিং এবং বিজ্ঞানের নম্বর (স্কোর) এখন বেশ কম।
২০০০ সালের পর প্রায় প্রতিবারের মতো এবারও তালিকায় এশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থাগুলো শীর্ষে রয়েছে। পিআইএসএতে শীর্ষে থাকা সিঙ্গাপুরের স্কোর ১ হাজার ৬৭৯। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের স্কোর ১ হাজার ৬০৫। জাপান ও তাইওয়ান উভয়ের স্কোর ১ হাজার ৫৯৯।
শীর্ষ ১০-এর পরের দেশগুলো হলো দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, এস্তোনিয়া, কানাডা, আয়ারল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ড। তাদের মোট স্কোর যথাক্রমে ১ হাজার ৫৭০, ১ হাজার ৫৬০, ১ হাজার ৫৪৭, ১ হাজার ৫১৯, ১ হাজার ৫১২ এবং ১ হাজার ৪৯৪।
পিআইএস ২০২৫-এর ফল অনুযায়ী, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, পড়ালেখা এবং অঙ্ক বা গণিতের দক্ষতা আগের চেয়ে অনেক বেশি কমে গেছে।