ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরীয় বন্দরনগরী মোখা দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। কৌশলগত এই বন্দর দখলের ফলে হুতিরা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় আরও একধাপ এগিয়ে গেল। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের চারটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, হুতিরা বাব আল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও হামলা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা লোহিত সাগর উপকূল ধরে দক্ষিণে ধুবাবের দিকে সরে যাচ্ছে। প্রণালির কাছে এবং পারিম দ্বীপের বিপরীতে ধুবাব অবস্থিত। সামরিক সূত্রগুলোর মতে, ধুবাব ও পারিমের নিয়ন্ত্রণ বাব আল-মান্দেবের ওপর প্রভাব বিস্তারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘বাব আল-মান্দেব’ অর্থ ‘অশ্রুর দরজা’। ইয়েমেনের আরব উপদ্বীপ এবং আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মধ্যবর্তী এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপে যাওয়া এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পণ্য পরিবহনেও এই পথ ব্যবহৃত হয়।
হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংঘাতের কারণে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবও জ্বালানি পরিবহনে লোহিত সাগরের এই পথের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হলে বৈশ্বিক তেলবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে। গতকাল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ছিল।
এদিকে হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান তেহরানকে ইয়েমেনে হুতিদের লাগাম টানার আহ্বান জানিয়েছে। তবে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইরান হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করে না।’