‘নভেম্বরের আগে যুদ্ধ থামবে না’

আগামী নভেম্বরের আগে ইরান যুদ্ধ শেষ হবে বলে মনে করেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে তেলের দামও কমবে না। তিনি গত বুধবার রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনে যোগ দিতে টেক্সাসে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ইরানে হামলার ১০ দিনের মাথায় যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। দুই মাসের মাথায় তিনি আবারও সংঘাত শেষের আশা ব্যক্ত করেন। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই অস্থিরতার গতিপথ নিয়ে তিনি এবার নতুন ইঙ্গিত দিলেন।

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হবে। কারণ, তারা (ইরান) আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।’ নির্বাচনের আগে তেলের দামও কমবে না বলে জানান তিনি।

ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে টেক্সাসে কোনো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে নিজ দলের ভেতর থেকেও তিনি চাপের মুখে আছেন।

গত সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র হওয়ার কারণে বুধবার তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছায়, যা জুলাইয়ের পর প্রথম। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘নির্বাচনের পরপরই তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করবে। আমার মনে হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আরও কিছুটা বেশি সময় লাগবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, ‘ইরান নির্বাচনে প্রভাব ফেলার জন্য মরিয়া চেষ্টা করছে। যাতে দুর্বল একটি গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসে এবং তারা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দেয়।’ এখানে দুর্বল গোষ্ঠী বলতে তিনি ডেমোক্র্যাটদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছেএ দাবির পক্ষে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ দেননি। তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগও বারবার অস্বীকার করেছে।

টেক্সাসের সম্মেলনে যোগ দিয়েও ট্রাম্প একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আমরা জেতার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে।’ ভাষণে তিনি তেল নিয়ে কিছু মার্কিন নাগরিকের অসন্তোষের কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, ‘লোকজন আমার কাছে এসে বলে, ইরান যুদ্ধ শুরু করা উচিত হয়নি। এই যুদ্ধের কারণে পেট্রোলের দাম বেড়ে গেছে।’

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে শুধু মার্কিন বাজার নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো এই যুদ্ধের অন্যতম বড় ভুক্তভোগী। সংঘাত বন্ধে তেহরান-ওয়াশিংটন একাধিকবার আলোচনায় বসলেও তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি। ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা হতে পারে, তবে এটা এমন কিছু নয়, যা আমরা বিবেচনা করছি।’

বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে দুই দেশ পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে। এ ছাড়া, মার্কিন মিত্র সৌদি আরব ও ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতিদের মাধ্যমে যুদ্ধের ব্যাপ্তি লোহিত সাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। এই সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালিও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।

নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতলে প্রাপ্তবয়স্করা ৫ হাজার ডলার করে পাবে : টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির ওই সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘রিপাবলিকানরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটউভয় কক্ষেই জয়ী হয়, তাহলে আমাদের বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি ও সাফল্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে।’ তবে তিনি এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি শর্ত দিয়েছেন। বলেছেন, ‘এ অর্থ অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ব্যয় করতে হবে।’ প্রস্তাবটির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।