শিবচরে বেড়েই চলছে বিড়ালের কামড়-আঁচড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা

মাদারীপুরের শিবচরে কুকুর ও বিড়ালের কামড়-আঁচড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে পোষা বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ে আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েই চলছে।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুত্রে জানা যায়, গত আগস্ট মাসে কুকুর ও বিড়ালের কামড়-আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ও র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১ হাজার ১৮০ জন। সে হিসাবে ওই মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে পোষা বিড়ালের আঁচড়ে আহত হন মেহের আফরোজ। তিনি জানান, বাসায় একটি পারসিয়ান বিড়াল পালন করেন তিনি। ওই রাতে অসাবধানতাবশত বিড়ালটির গায়ে পা লেগে গেলে সেটি তাকে আঁচড় দেয়। পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বর সকালে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নেন তিনি।

পোষা বিড়ালের কামড়ে আহত হয়েছে ১০ বছরের এক শিশুর বাবা রফিক ব্যাপারী জানান, গত মাসে তার মেয়ে একটি বিড়ালের বাচ্চা বাড়িতে নিয়ে আসে। মেয়ের আবদারে সেটি বাড়িতে রেখেই লালন-পালন করছিলেন তারা। একদিন বিড়ালের সঙ্গে খেলাধুলার সময় সেটি শিশুটির হাতে কামড় দেয়। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মো. মেহেদী হাসান বলেন, বর্তমানে বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ঘরে বিভিন্ন জাতের বিড়াল পালনের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিভিন্ন জাতের বিড়াল পালনের আগ্রহ বেড়েছে। পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলাধুলা কিংবা অসাবধানতাবশত তাদের শরীরে হাত-পা লাগার কারণে অনেকেই কামড় ও আঁচড়ের শিকার হচ্ছেন।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তরিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, কুকুর বা বিড়ালের কামড় কিংবা আঁচড়কে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। আক্রান্ত স্থান দ্রুত সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ক্ষতস্থানে মরিচ, চুন, মাটি, তেল বা অন্য কোনো পদার্থ লাগানো উচিত নয়। এরপর যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী র‍্যাবিস ভ্যাকসিনসহ অন্যান্য চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, পোষা বিড়াল বা কুকুর থাকলে প্রাণীটির স্বাস্থ্য ও নিয়মিত টিকাদানের বিষয়ে মালিকদের সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলাধুলার সময় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।