মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় চলতি সপ্তাহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে চার মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। খবর রয়টার্সের।
সর্বশেষ হিসাবে, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৮৬ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১০২ দশমিক ২৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। সপ্তাহের শুরুতে ব্রেন্ট ১০৮ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ১০৩ ডলারের ওপরে উঠে যায়। রয়টার্সের হিসাবে, গত সপ্তাহের তুলনায় উভয় বেঞ্চমার্কের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে—জুলাইয়ের মাঝামাঝির পর যা সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক বৃদ্ধি।
আইএনজির পণ্যবাজার বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেছেন, সংঘাত কত দিন চলবে এবং এর মাত্রা কতটা বাড়বে—বাজার এখন সেই হিসাব নতুন করে করছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর হুমকিও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু পরিমাণ তেল ও পণ্য এখনও পরিবহন হলেও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তা অনেক কম, যা পরিস্থিতির ভঙ্গুরতাই তুলে ধরছে।
লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের অগ্রযাত্রার পাশাপাশি পারস্য উপসাগরে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে ট্যাংকার ঘিরে পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও।
আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর রয়টার্সকে বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং ইরান সংঘাতকে যতটা সম্ভব দীর্ঘ ও বিস্তৃত করতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। ফলে মার্চের শুরুতে ডব্লিউটিআইয়ের ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারের সর্বোচ্চ দাম আবারও পরীক্ষা করার সম্ভাবনা বাড়ছে।
আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে বছরের শেষ নাগাদ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তার মতে, হুথিদের অগ্রযাত্রার কারণে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও বাড়িয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বন্ডের সুদহারও বেড়েছে। জেপি মরগানের নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপের চারটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক—ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ—অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড মিলিয়ে আট থেকে নয়টি উন্নত অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে।
প্রাথমিকভাবে এসব সুদহার বৃদ্ধি সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হলেও শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রণে না আসা মূল মূল্যস্ফীতি এবং পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে আরও কঠোর পদক্ষেপের ঝুঁকি রয়েছে।