পার্বত্যাঞ্চলের সমস্যা নিরসনে কর্মকৌশল নির্ধারণে ৩ কমিটি

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রচলিত আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে জাতীয় কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে তিনটি কমিটি করেছে সরকার। উচ্চপর্যায়ের এসব কমিটির গঠনের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্র সচিবকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক নির্বাহী কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরামর্শক এ কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা বিধান, সন্ত্রাস দমন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক নির্বাহী কমিটিকে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। এ সুপারিশ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক নির্বাহী কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশলের খসড়া প্রণয়ন করে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কমিটিকে দেবে। এরপর জাতীয় কমিটি সেই কর্মকৌশল চূড়ান্ত করবে।

জাতীয় কমিটিতে অর্থ ও পরিকল্পনা, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, ভূমি, আইন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীকে সদস্য করা হয়েছে। এ ছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন পার্বত্য জেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালককে কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ কমিটিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা প্রধান সমন্বয়ক এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং আন্তঃসংস্থা বাস্তবায়ন তদারকি করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থাগুলোর কার্যপরিধি ও ক্ষেত্র নির্ধারণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এ কমিটিকে।

নির্বাহী কমিটিতে ভূমি, আইন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, এনএসআই মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের অপারেশন্স ও পরিকল্পনা পরিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনএসআইয়ের পরিচালককে (সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম) সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটিতে ডিজিএফআই মহাপরিচালককে প্রধান সমন্বয়ক এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালককে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার সুনির্দিষ্ট করণীয় নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নবিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন; পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংস্কার এবং নতুন আইন ও বিধি-বিধান প্রণয়নে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

পরামর্শক কমিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান, ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স কমিটির চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমাকে সদস্য করা হয়েছে।