নাটোরের গুরুদাসপুরে আত্রাই নদীতে অবৈধ সৌতি জাল বসানোর জন্য বাঁশের খুঁটি ও বেড়া দিয়ে তৈরি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সাবগাড়ি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম। প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিকের সহায়তায় নদীর ভেতরে বসানো বাঁশের খুঁটি ও বেড়া তুলে ফেলা হয়। অভিযানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা।
প্রশাসন সূত্র জানায়, নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে এবং মাছের চলাচলের পথ সংকুচিত করে এমন স্থাপনাগুলো অপসারণের অংশ হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সৌতি জালের কারণে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে এবং দেশীয় মাছের প্রজননও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর চলনবিলের হরদমা খাল, সাবগাড়ি ও রাবার ড্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ সৌতি জাল জব্দ ও ধ্বংস করে প্রশাসন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান থামলেই কিছু এলাকায় আবারও একইভাবে জাল বসানো হয়।
রাবার ড্রাম এলাকায় রবিউল করিম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে সৌতি জাল দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। তবে রবিউল করিম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বর্তমানে তিনি সৌতি জালের সঙ্গে জড়িত নন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ প্রভাবশালী হলেও আইন অমান্য করে সৌতি জাল বা স্থাপনা বসালে তা উচ্ছেদ করা হবে। রবিউল করিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে, সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।