ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন, ভাঙনের মুখে জমি

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুরে পুকুর খননের নামে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কর্মকাণ্ডের কারণে আশপাশের শতাধিক বিঘা আবাদি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। পাশাপাশি বালুর বড় স্তূপের কারণে অনেক জমিতে চাষাবাদও ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের একটি ফসলি জমির মাঝখানে বড় একটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে গভীর গর্ত থেকে বালু তোলা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু পাশের জমিতে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এতে আশপাশের জমির মাটি সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ কাজের সঙ্গে চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল নয়ন ও সুমন আলী জড়িত। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, বালু উত্তোলনের কারণে তাদের ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে জমি ভেঙে পুকুরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। তার দাবি, বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি।

গুরুদাসপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলাম বলেন, এর আগে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছিল। আবার বালু তোলা শুরু হয়ে থাকলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পুকুর বা ফসলি জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বেআইনি। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একদিকে গভীর হচ্ছে গর্ত, অন্যদিকে বাড়ছে কৃষকের উৎকণ্ঠা। যে জমিতে ফসল ফলার কথা, সেই জমিই যদি ধীরে ধীরে ভাঙনের মুখে পড়ে। তবে ক্ষতি শুধু মাটির নয়, ক্ষতি কৃষকের জীবিকারও। এখন স্থানীয়দের অপেক্ষা, অভিযোগের স্থায়ী সমাধানে প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত