'স্বৈরশাসক' এমবাপ্পে? কি বলেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা

বিশ্বকাপ চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়ে তৈরি হওয়া স্বৈরশাসক এআই মিমগুলো পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেননি এই ফরাসি তারকা। ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমবাপে জানান, মিমগুলোর মধ্যে কিছু মজার দিক থাকলেও ইতিহাসের নৃশংসতার সাথে তুলনা করার বিষয়টি তাঁর কাছে মোটেও সুখকর মনে হয়নি।

সাক্ষাৎকারে এমবাপে বলেন, "এর মধ্যে কিছু অংশ মজার ছিল, কারণ আপনি বুঝতে পারবেন যে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি বেশ সহজ-সরল বা রসাত্মক। তবে এর অন্য একটি দিক কিছুটা অস্বস্তিকর, কারণ আমরা সবাই জানি অতীতে এ ধরণের মানুষেরা ইতিহাসে কী পরিমাণ ক্ষতিসাধন করেছে।"

মিমগুলোতে এমবাপেকে সামরিক পোশাক, সিংহাসনে বসা কিংবা সাবেক সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্ট্যালিনের মতো বিতর্কিত ও নির্মম ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের পাশে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, "যাঁরা অন্য মানুষকে হত্যা করেছেন বা কোটি কোটি মানুষকে দুর্দশার মধ্যে ফেলেছেন, তাঁদের সাথে তুলনা করাটা... আমি মনে করি না আমার জীবনে আমি এমন কিছু করেছি। তাই এটি এক মিশ্র অনুভূতির জন্ম দেয়।"

ফরাসি এই স্ট্রাইকার, যিনি সম্প্রতি লিওনেল মেসিকে টপকে ২২ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন দখল করেছেন, আরও বলেন, "আমি জানি এটি হালকা মেজাজেই করা হয় এবং এর পেছনে বড় কোনো খারাপ উদ্দেশ্য থাকে না। কিন্তু মাঝেমধ্যে এটি মানুষের রাজনৈতিক ও মানবিক সচেতনতার অভাবের বিষয়টিই ফুটিয়ে তোলে।"

এদিকে সতীর্থ উসমান দেম্বেলের দেওয়া ‘মুবুত’ (আফ্রিকার সাবেক স্বৈরশাসক মবুতু সেসে সেকোর নামানুসারে) উপনাম নিয়ে এমবাপে জানান, ডেম্বেলে কেবল সোশ্যাল মিডিয়া দেখে রসিকতা করেই তাকে এই নামে ডাকেন, যা সতীর্থের সাথে একান্তই মজার বিষয়।

এমবাপেকে নিয়ে ইন্টারনেটের যত কাণ্ড ও মজার উন্মাদনা
প্রতিটি বিশ্বকাপই ইন্টারনেটকে নতুন কোনো উন্মাদনা উপহার দেয়, তবে এবারের আকর্ষণ কোনো গোল বা গোল উদযাপনের মুহূর্ত নয়; বরং কিলিয়ান এমবাপে গোপনে পুরো ফুটবল বিশ্ব পরিচালনা করছেন—এমন একটি কাল্পনিক ধারণা। ফরাসি এই তারকাকে নিয়ে ভক্তরা এখন তাকে কেবল একজন ফুটবলার নয়, বরং ফুটবলের সর্বোচ্চ নেতা বা সুপ্রিম লিডার হিসেবে কল্পনা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই রসাত্মক ট্রেন্ডটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে, এমবাপের করা সাধারণ যেকোনো কাজকেই তার ফুটবলের একচ্ছত্র ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের পাশে এমবাপের দাঁড়িয়ে থাকা ছবি দেখে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা মশকরা করে লিখেছেন যে প্রেসিডেন্ট বুঝি তার কাছে কাজের রিপোর্ট দিতে এসেছেন! সতীর্থদের ট্রেনিং দেখা মানে নাকি তার বার্ষিক পারফরম্যান্স রিভিউ নেওয়া, আর মাঠ ছাড়ার সময় রেফারিকে ক্যাপ্টেনের আর্মব্যান্ড এগিয়ে দিতে বলা দেখে ভক্তদের সিদ্ধান্ত—রেফারিরাও এখন এমবাপের অধীনে চাকরি করেন! এমনকি তাকে নিয়ে তৈরি একটি গান ইতোমধ্যে লাখ লাখ ভিউ কুড়িয়েছে।

এই কৌতুকটি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ভিডিওতে এমবাপের উপস্থিতিও বাধ্যতামূলক নয়। কোনো কোচের চাকরি গেলে কমেন্ট বক্সে পড়ে যায়—"এমবাপে ফোন করে বরখাস্ত করেছেন।" কোনো খেলোয়াড় ক্লাব ছাড়লে বলা হয়—"এমবাপে ট্রান্সফার অনুমোদন করেছেন।" পছন্দের কোনো খেলোয়াড় ১০ মিনিট বেঞ্চে বসে থাকলেও ভক্তদের মন্তব্য—"সে হয়তো ডিক্টেটরকে স্যালুট দিতে ভুলে গেছে!"

পোস্টগুলোর কমেন্ট সেকশন আরও বেশি মজার। প্রায় প্রতিটি পোস্টের নিচে দেখা যায়—"এমবাপে দেখার আগেই এটি ডিলিট করুন!" কিংবা "তিনি কোনো এক গোপন অফিস থেকে ফুটবল নিয়ন্ত্রণ করেন।" কেউ কেউ আবার দাবি করেন, প্রতি সোমবার সকালে ফিক্সচার লিস্টে এমবাপের নিজের স্বাক্ষর থাকে। এমবাপে নিজে খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখান না বলেই এই রসাত্মক ট্রেন্ডটি দুই বিশ্বকাপ, নানা ট্রান্সফার ও ট্রফি জয়ের পরও সমানভাবে টিকে আছে। ফুটবল ভক্তরা দশকের পর দশক ধরে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় কে তা নিয়ে তর্ক করলেও, ইন্টারনেট যেন ভিন্ন এক হাসির খোরাক দিয়ে অন্য এক বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দিয়েছে।