ব্রিকস সম্মেলন: পুতিন-জিনপিংকে নিয়ে মোদির ছবি প্রকাশ, দিল্লি ঘোষণা অনুমোদন

দিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনের শুরুতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হাত ধরে থাকা একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এই ছবিটিকে তিন প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। খবর এনডিটিভি’র।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ওই ছবিটিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রাবোও সুবিয়ান্তোকেও দেখা গেছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দিল্লিতে পৌঁছান। এর পরপরই শনিবার দুপুরে আঞ্চলিক এই জোটের সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের মাটিতে অবতরণ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দীর্ঘ সাত বছর পর এটি শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সম্মেলনের ফাঁকে শনিবার সন্ধ্যায় মোদি ও জিনপিংয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে যাননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ  সম্মেলনে সরকারের কোনো প্রতিনিধিও পাঠানো হয়নি বলে আগেই জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ওই আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী অংশ নিচ্ছেন না। কোনো প্রতিনিধিও পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে ভারতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর হতে পারে।

এবারের ব্রিকস সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বৈশ্বিক দক্ষিণাঞ্চল বা ‘গ্লোবাল সাউথ’। সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোকে বৈশ্বিক মঞ্চে কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, বরং নীতি-নির্ধারক হয়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, বৈশ্বিক সংলাপে জোরালো ভূমিকা রাখতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ প্রদানে ভারত সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

সম্মেলনের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে এসেছে ‘নয়া দিল্লি ঘোষণা’র অনুমোদন। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ দরকষাকষির পর একটি সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার মতবিরোধের কারণে যৌথ ঘোষণা আটকে গিয়েছিল। তবে এবার সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসতে সক্ষম হওয়াকে ভারতের কূটনীতি এবং ব্রিকসের শেরপাদের বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, নয়া দিল্লি ঘোষণায় সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সংঘাত অবসানে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে কেবল ‘সংলাপ ও কূটনীতিই সামনে এগোনোর একমাত্র পথ’—এই নীতিতে জোর দেওয়া হয়েছে ব্রিকসের ঘোষণায়।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বর্তমান মেরুকরণের মাঝে এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বিশ্বমঞ্চে ব্রিকসের প্রভাব আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।