কিরগিজস্তানে মোদির সঙ্গে বৈঠক করতে চান পুতিন

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী সপ্তাহে কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিতব্য একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করতে চান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার ক্রেমলিনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এর আগে এক বছর বাণিজ্য কমে গেলেও বর্তমানে তা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি। বৈঠকে জয়শঙ্করের মাধ্যমে মোদিকে শুভেচ্ছাও জানান রুশ প্রেসিডেন্ট। খবর ব্লুমবার্গ।

পুতিন বলেন, ‘আমি আশা করি, খুব শিগগিরই মি. মোদির সঙ্গে দেখা হবে।’ তিনি জানান, সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে দুই নেতার বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালেও তাদের অন্তত আরও একবার দেখা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এবারের এসসিও সম্মেলন কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, এসসিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন। সম্মেলনের পরও দুই নেতার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’

তিনি আরও জানান, মোদি আশা করছেন, পুতিন পরবর্তী ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।

দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। জোটটির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এ ছাড়া মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও জোটটির সদস্য।

বৈঠকে পুতিন ভারতকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সার সরবরাহ আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রাশিয়া ও ভারতের সম্পর্ক কয়েক দশকের পুরোনো। স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকেই দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র যখন প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছিল, তখন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন জোটনিরপেক্ষ ভারতের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা দিয়েছিল।

বর্তমানে রাশিয়া ও ভারত প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা চাপের মধ্যেও নয়াদিল্লি মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রেখেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত