ডাকসুর শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইট চালু: ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন

শিক্ষকদের পাঠদানের মান যাচাইয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়ার পদ্ধতি চালু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাংশ বলছে, শিক্ষক মূল্যায়নের দায়িত্ব ডাকসুর নয়। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে (duevaluation.com) ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬টি বিভাগের ২ হাজার ৪৫ জন শিক্ষকের বিষয়ে ৬ হাজার ৬১৫ জন শিক্ষার্থী মতামত দিয়েছেন। বিভিন্ন শিক্ষকের রেটিংও এসেছে, কেউ পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৫, আবার কারও স্কোর নেমেছে ১ বা ২।

ডাকসুর উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। তিনি বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নের এই উদ্যোগ নেওয়ার এখতিয়ার ডাকসুর নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজস্ব শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ আগেই নিয়েছে। ২০২২ সালে এ সংক্রান্ত নীতিমালা করা হয়েছিল; পরে কোভিড পরিস্থিতিতে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া চলছে। ডাকসুর উদ্যোগ নিয়ে প্রশাসন আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।

ডাকসুর ঘোষিত পদ্ধতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ই-মেইল ব্যবহার করে নিবন্ধনের পর একটি কোডের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে হবে। মূল্যায়নকারীর পরিচয় গোপন রাখার কথা জানিয়েছে ডাকসু। কিন্তু এখানেই বড় প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের মতে, একজন শিক্ষার্থী কোনো শিক্ষকের ক্লাস না করেও যদি তাঁর বিষয়ে মতামত বা রেটিং দিতে পারেন, তাহলে সেই মূল্যায়নের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বাস্তবতায় অনলাইন রেটিংয়ে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রকাশ্য মন্তব্যের কারণে শিক্ষকের হয়রানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে ডাকসু বলছে, তাদের উদ্দেশ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরোধ তৈরি করা নয়। ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে ডাকসু এই উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে এক মাসের জন্য কার্যক্রমটি পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। এ সময়ে যেসব সমস্যা বা প্রশ্ন সামনে আসবে, সেগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খোরশেদের মতে, শিক্ষকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি হলেও মূল্যায়নের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।