দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধু আইনগত ব্যবস্থা নয়, সামাজিক প্রতিরোধও জোরদার করতে হবে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের সামাজিকভাবে বয়কটের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সেবাখাতে নাগরিকদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সেবার মান বাড়বে বলে এমন মতামত এসেছে নীলফামারীতে আয়োজিত এক অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায়।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নীলফামারী সদরের নটখানার স্থানীয় কুষ্ট হাসপাতালের ট্রেনিং সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) উদ্যোগে আয়োজিত সভায় ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) ও অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপের (এসিজি) দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন। এসময় তারা জেলার বিভিন্ন সেবাখাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ, শুদ্ধাচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চলমান কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করে। 

সনাক সভাপতি মো. আকতারুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য তাহমিনুল হক ববীর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের কোঅর্ডিনেটর মো. আতিকুর রহমান।

তিনি বলেন, সেবাখাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকে কার্যকর করতে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন সনাকের সহসভাপতি আফরোজা বিনতে আজিজ গ্লোরী ও ভূবন চন্দ্র রায়, সদস্য মো. মিজানুর রহমান লিটু, আজমা আহসান, নাসিমা বেগম, ফওজিয়া ইয়াসমিন জলি ও রত্না চৌধুরী।

উন্মুক্ত আলোচনায় ইয়েস গ্রুপের দলনেতা মো. আশিকুর জামান, সহদলনেতা তুষার আলী এবং সদস্য ফারজানা আক্তার আরিফা তরুণদের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম ও নাগরিক সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

 এ সময় নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল, বিভিন্ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং উপজেলা ভূমি অফিসকেন্দ্রিক এসিজির সদস্যরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি প্রতিরোধ, সেবার মানোন্নয়ন ও নাগরিক অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক বা আইনগত পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করলে হবে না। দুর্নীতিকে সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে বয়কটের মাধ্যমে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। 

সভায় অংশ নেওয়া সনাক, ইয়েস ও এসিজির সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধ, নাগরিক অধিকার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং সেবাখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

শেষে সনাক সভাপতি মো. আকতারুল আলম উপস্থিত সদস্যদের দুর্নীতিবিরোধী শপথ পাঠ করান। পরে সনাক, ইয়েস ও এসিজির সদস্যদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।