তিস্তায় আবারও পাথর উত্তোলন: ১৬ নৌকা ও ৪ ইঞ্জিন ধ্বংস

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে নতুন করে আবারও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন শুরু হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযানে ১৬টি নৌকা ও চারটি ইঞ্জিন ধ্বংস করা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, ৫১ বিজিবি রংপুরের মেজর জুলকার নাঈন ও ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকারের নেতৃত্বে গঠিত ৬২ সদস্যের টাস্কফোর্স এ অভিযান চালায়।

 ইউএনও মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান বলেন, তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের তালিকা করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই তদন্ত ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন অত্যন্ত কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এটি এককালীন অভিযান নয়। তিস্তা নদী রক্ষায় টাস্কফোর্সের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ পুনরায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ভারী যন্ত্র দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশে গভীর খাদ সৃষ্টি ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তনের পাশাপাশি তীরভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। অবৈধ পাথর উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধে শুধু সরঞ্জাম ধ্বংস নয়, এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে বলে স্থানীয়রা জোড় দাবি জানান।

এর আগে, চলতি বছরের ১৯ মার্চ তিস্তায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশের ওপর হামলা করে ওই চক্রের সদস্যরা। এতে আহত হন ১৭ জন। এঘটনায় পুলিশ হামলাকারী ও পাথর চক্রের সদস্যদের কয়েকদফা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু তারা জামিনে বের হয়ে আবারও বোমা মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন শুরু করেছে।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, আমরা জড়িতদের সনাক্তের চেষ্টা করছি। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত