রিশাদ-আলিসের ঘূর্ণিতে ওয়ানডে সিরিজ জয় হৃদয়দের

কদিন আগেই এই পচেফস্ট্রুমের মাঠে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়েছিলেন তাওহীদ হৃদয়। সেই একই ভেন্যু সেনওয়েস পার্কে এবার বল হাতে জাদু দেখালেন দুই স্পিনার রিশাদ হোসেন ও আল ইসলাম। তাদের বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর উদ্বোধনী ব্যাটারদের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে ৫ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে হৃদয়ের বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের তোপের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা প্রোটিয়ারা ৪০ ওভারে মাত্র ১৮২ রানে অলআউট হয়ে যায়। দলের পক্ষে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন সিনান্থেবা কুশিলি ও অধিনায়ক মার্কেস অ্যাকারম্যান। রিশাদ হোসেন ৪৫ রানে নেন ৪ উইকেট। আলিস আল ইসলাম ১০ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নেন তিনটি। মুশফিক হাসান, আল ফাহাদ ও সাইফুদ্দিন নেন একটি করে উইকেট। স্বাগতিকদের সিনান্থেবা কুশিলি ৫৯, মার্কেস অ্যাকারম্যান ৫৪, যুবায়ের হামজা ৩১, ওকুহলে সেলে অপরাজিত ৪৫।
 
১৮৩ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ নাঈমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। মাত্র ১৫ ওভারে দলীয় রান ৯২ পার করেন এই দুই ওপেনার। সাইফ হাসান মাত্র ১৫ বলেই ৬১ রানের এক তাণ্ডব চালান, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা।
 
এছাড়া মোহাম্মদ নাঈম ৭৭ বলে ৬০ রান করেন। যদিও মাঝপথে কাইল সিমন্সের লেগ স্পিনের সামনে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল সফরকারীরা, তবে শেষ পর্যন্ত ৩৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। আফিফ হোসেন অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুটি বৃষ্টিতে পন্ড হয়েছিল। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ': ১৮২/১০ (৪০ ওভার; ব্যাটসম্যানদের রান: সিনান্থেবা কুশিলি ৫৯, মার্কেস অ্যাকারম্যান ৫৪, যুবায়ের হামজা ৩১, ওকুহলে সেলে অপরাজিত ৪৫। রিশাদ হোসেন ৪/৪৫ (১০ ওভার), আল ইসলাম ৩/৩৫ (১০ ওভার), মুশফিক হাসান ১/৩৩, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ০/৩০, সাইফ হাসান ১/২৩, আল ফাহাদ ১/১০।)
 

বাংলাদেশ 'এ': ১৮৫/৫ (৩৩ ওভার; সাইফ হাসান ৬১, মোহাম্মদ নাঈম ৬০, পারভেজ হোসেন ইমন ১৭, নুরুল হাসান ১৬, রিশাদ হোসেন অপরাজিত ৫, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩, আফিফ হোসেন অপরাজিত ৬। কাইল সিমন্স ৩/৩৬, ডিয়ান ফরস্টার ১/১৩, ইমরান মানাক ১/৭৬।)